বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামনির বায়োপসিসহ অপারেশন হবে আগামীকাল শনিবার (৫ আগস্ট)। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮ টার মধ্যে এ অপারেশন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন,‘ মুক্তামনির হাত যেন কাটতে না হয়, সে লক্ষ্য নিয়েই ওটিতে ঢুকবো’
গত ২ আগস্ট প্রায় ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর ১২ সদস্যের চিকিৎসক বোর্ড শনিবার অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা শনিবার তার বায়োপসি অপারেশনও (অস্ত্রোপচার) করবো। যেটাকে আমরা তার মূল চিকিৎসার প্রথম ধাপ হিসেবে বলছি।'
অস্ত্রোপচারের জন্য মুক্তামনি শারীরিকভাবে প্রস্তুত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ওর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল, তবে ঝুঁকি আছে। আমরা সেজন্য সব ধরনের সতর্কতা নিয়ে, যত ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা যায়, সেসব প্রস্তুতি নিয়েই অপারেশন থিয়েটারে যাবো। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে অস্ত্রোপচার শুরু হবে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই। তৌফা-তহুরার চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেমন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সফল হয়েছেন, মুক্তামনির ক্ষেত্রেও আমরা তেমন সফল হতে চাই।'
মুক্তামনির হাত কেটে ফেলতে হবে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যে কোনও অপারেশনের একেকটা প্রস্তুতি থাকে। সার্জনরা একরকম চিন্তা করে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকেন, কিন্তু পরিস্থিতি সবসময় অনুকূলে থাকে না। বাস্তবতা ভিন্ন হয়ে যায়। তখন চিন্তাধারা বদলে যায়। বদলাতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। অপারেশনের সময়ে তার রক্তক্ষরণসহ অনেক কিছুই হতে পারে, সবধরনের সতর্কতা নিয়েই আমরা ওটিতে ঢুকবো। যদি দেখি পরিস্থিতি আমাদের ফেভারে রয়েছে, তাহলে কিছুটা বায়োপসি করবো। কিছুটা কেটে ফেলতে বাধ্য হবো। সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপরে।’
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ছিল মুক্তামনিকে নিয়ে। তার নির্দেশ মতো আমরা সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ করেছি।মুক্তামনিকে নিয়েই আমরা তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা জানিয়েছে, ‘দিস কেস ইজ নট অপারেবল অ্যান্ড কিউরেবল’, মুক্তামনির রোগ পুরোপুরি সুস্থ করার না।’
আপনারা তাহলে প্রাথমিকভাবে হাত কেটে ফেলার পক্ষে না, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোনও প্লাস্টিক সার্জন হাত কাটার পক্ষে থাকে না। প্লাস্টিক সার্জনদের কাছে মানুষ আসেন জোড়া লাগাতে, কাটার জন্য নয়। সেখানে প্লাস্টিক সার্জনরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন হাতটা না কেটে রেখে দিতে। কিন্তু তারপরও ফিল্ডে নামার পর দেখা যাবে কী হয়। ’
ডা. সেন আরও বলেন, ‘আমরা রোগীর ঝুঁকি আছে জেনে মুক্তামনির বাবা-মাকে সব বলেছি। সব ব্যাখ্যা করেছি। হাত কাটাও লাগতে পারে -এ কথাও বাবা-মাকে জানিয়েছি। তারা বলেছেন আমাদের যে কোনও চিকিৎসা মেনে নেবেন। কারণ এছাড়া কোনও উপায় নেই। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যদি মেয়েটির চিকিৎসা না করি, কোনও ঝুঁকি না নেই, তাহলে মেয়েটি আবারও বাড়ি ফিরে যাবে। হাতটা পঁচে পঁচে মেয়েটা মারা যাবে। মুক্তামনির বাবা-মা হাত না থাকলেও মেয়েটা যেন বেঁচে থাকে সে কথাই বলেছেন।’ আমাদেরকে সব ধরনের কনসেন্ট (সম্মতি) তারা দিয়েছেন।’ বাকিটা আল্লাহ ভরসা, বলেন ডা. সামন্ত লাল সেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তির পর প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা চারটি রোগের কথা ধারণা করলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, লিমফেটিক ম্যালফরমেশন রোগে ভুগছে মুক্তামনি। এটি একটি জন্মগত রোগ (কনজিনেটাল ডিজিস)। এর বিশেষত্ব হচ্ছে, জন্মের পরপরই কিছু ক্ষেত্রে এর প্রকাশ পায় কারও কারও ক্ষেত্রে, কারও-কারও ক্ষেত্রে পায় না। তবে মুক্তামনি এতদিন অবহেলা আর অপচিকিৎসার শিকার হয়েছে বলে পরিবার ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে।
/জেএ/ এপিএইচ/








