শুভ্র কুমার বিশ্বাস নামে এক ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোরে এ উত্তেজনা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢামেকে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
শুভ্র কুমারের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার ভোর ৪টার দিকে তারা বকশিবাজারে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেখান থেকে ভোর সাড়ে চারটার দিকে শুভ্র আরেক বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নিয়ে বের হয়। কিছুক্ষণ পর শুভ্র নিজেই বন্ধুদের ফোনে জানায়, তারা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পরে বন্ধুরা উদ্ধার করে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।
শুভ্রর বন্ধুরা জানায়, তার মোটসাইকেলে ব্রেক ছিল না। ফলে ভোরে কোনও ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। তারা শুভ্রকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেকের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরও চিকিৎসকরা তাকে কোনও চিকিৎসা দেননি। তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, রোগীকে ভর্তি করাতে অভিভাবকদের সঙ্গে আসা লাগবে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
তবে হাসপাতাল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় আইসিইউতে সিট খালি নেই। পরে তার বন্ধুরা জোরপূর্বক আইসিইউতে গিয়ে দেখে দুই একটি বাদে সব সিটই খালি আছে। এক পর্যায়ে শুভ্রকে নিয়ে একটি বেডে রাখা হয়। কিন্তু আইসিইউ’র কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীদের কক্ষে ছিলেন না। এক পর্যায়ে শুভ্রর বন্ধুরা নিজ কক্ষ থেকে ডাক্তারকে ঘুম থেকে জাগান। তখন ডাক্তার ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুভ্রকে দেখতে আসেন এবং শুভ্রকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাদের অভিযোগ, 'চিকিৎসা ছাড়া আমাদের দেড় ঘণ্টা বাসিয়ে রাখা হয়।'
শুভ্রর বন্ধু রায়ান মাহমুদ ধ্রুবও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তাকে ঢামেক থেকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শুভ্রর খালু উত্তম কুমার সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি সাড়ে ৫টায় ফোন পাই। আইসিইউতে এসে দেখি তাকে পাঞ্চ করছে। তারা বলে, আমরা কিছুই পারছি না। কিন্তু আইসিইউতে আনার আগে তাকে দেড় ঘণ্টার মতো নিচে ফেলে রাখা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা পেলে তাকে বাঁচানো যেতো। এই অবহেলার প্রতিকার কী হবে।’
জানা গেছে, শুভ্র কুমার সেন ঢাকা বিশ্বব্যিালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি এবং এ বছর সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। তার মা ঢামেকের গাইনি বিভাগের নার্স।
/জেএ/এসএনএইচ/








