গৃহকর্মী লাইলী বেগমের লাশ উদ্ধার ও বস্তিবাসীদের হামলার ঘটনার পর রাজধানীর বনশ্রীর সেই বাড়িটি এখন একেবারেই ফাঁকা। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বনশ্রীর ডি ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাড়িটির সামনে পুলিশি পাহারা, ভেতরে কেউ নেই। শুক্রবার দুপুরে বাড়িটির একটি ফ্লোরে গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগ আর সে কারণে আশেপাশের বস্তিবাসীর ঢিল ছোড়া, পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ, গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা দেখে রাতভর চরম আতঙ্কে ছিল সাত তলা ভবনটির অপর ভাড়াটিয়ারা। শনিবার সকাল হতে না হতেই নিজ নিজ ফ্লাট তালাবদ্ধ করে ভবনটি ছেড়ে গেছেন তারা।
শুক্রবার সাত তলা ওই ভবনের সামনে গিয়ে নিহত গৃহকর্মীর স্বজনরা বিক্ষোভ করে। এসময় বিক্ষুব্ধ স্বজন ও প্রতিবেশী বস্তিবাসী বাড়িটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে বাড়িতে থাকা সকল ভাড়াটিয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে নিরাপদে চলে যায়। ঘটনার একদিন পরও বনশ্রীতে এখন থমথমে পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়িটির সামনে কড়া পুলিশ পাহারা। বাড়ির সামনে রায়োট কারও অবস্থান করছে। ইটের আঘাতে প্রতিটি তলার জানালা গ্লাস ভেঙে গেছে। ভবনের বাসিন্দারাও আরও কোনও ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কায় শনিবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন।
এদিকে, লাইলীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই বাড়িটির গৃহকর্তা মাইন উদ্দিন ও কেয়ারটেকারকে শুক্রবার রাতে আটক ও পরে গ্রেফতার দেখানোর পর আজ গৃহকর্ত্রী শাহানা বেগমকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম খান তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার রাতে এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা দায়ের করেছে লাইলীর ভাসুর শহীদুল। অপরটি পুলিশ।
শহীদুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'গতকাল সকালে বাসা থেকে লাইলীকে বাড়িওয়ালা মইন উদ্দিনের কেয়ারটেকার রহিম ডেকে আনে। এরপর এই ঘটনা ঘটে'। তিনি বলেন, 'লাইলীকে তারা পাঁচ মাস ধরে বেতন দেয় না। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। মরতে মন চাইলে এখানে এসে মরবে কেন?' শহীদুলের স্ত্রী বলেন, 'আমরা ৯ সকাল ৯টার সময় খবর পাই। এরপর দ্রুত বাড়িওয়ালার বাসায় যাই। সেখানে বাড়িওয়ালি প্রথমে আমাদের ঢুকতে দেয়নি। পরে আমি কয়েকটা পোলাপান নিয়ে গিয়ে ঢুকি। কিন্তু তখন লাশ ঢাকা মেডিক্যালে। এরপর আমাদের লোকজন ঢাকা মেডিক্যালে যায়।'
তিনি আরও বলেন, ‘লাইলী তার স্বামী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ভারতে গিয়েছিল। কয়েক বছর সেখানে ছিল। সেখানেই তার দুই সন্তান হয়। বড় মেয়ের নাম মরিয়ম (৫), ছোট ছেলে আতিকুলের বয়স মাত্র আড়াই বছর।' দুই ছেলে-মেয়ে হওয়ার পর দেশে আসেন লাইলী। কিন্তু তার স্বামী ভারতেই থাকে। দেড়বছর আগে দেশে আসার সময় ভারতের পুলিশ তাকে আটক করে। সেই থেকে সে ভারতের জেলে আছে। দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে লাইলী বনশ্রীর লেকেরপাড়ে সোহাগ কোম্পানী বস্তিতে থাকেন।' লাইলীর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা নজরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
শনিবার সকালে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দুটি মামলা হয়েছে। আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর লাইলীর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো।' গতকাল শুক্রবার বাড়িওয়ালা মইন উদ্দিন ও কেয়ারটেকার তোফাজ্জল রহিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ শনিবার বাড়িওয়ালার স্ত্রী শাহানা বেগমকে গ্রেফতার করে। অপরদিকে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
/এআরআর/টিএন/








