খালাতো বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় রাজধানীতে এক যুবককে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার পর এবার মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে হামলাকারী বখাটের স্বজনরা। আহত আলী ইমাম রাকিবের মা শারমিন জামান চৌধুরীকে এ হুমকি দেওয়া হয়। শনিবার (০৫ আগস্ট) দু’দফা হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান শারমিন জামান।
শনিবার তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে বাসা থেকে হাসপাতালে আসার পথে আমার সিএনজি আটকিয়ে তিনজন হুমকি দেয়। তারা বলে, “এখন পা ভাঙলেও ছেলে আছে, মামলা না তুললে ছেলেই থাকবে না।’” শুধু রাস্তাতেই নয়, পঙ্গু হাসপাতালে এসেও একজন হুমকি দিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
গত শুক্রবার (০৪ আগস্ট) দুপুরে খালাতো বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় রাকিবকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয় স্থানীয় ফাহিম ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন। মিরপুরের শেওড়াপাড়ার শামীম সরণিতে এ ঘটনা ঘটে। রাকিব উত্তরার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মিরপুর থানায় রাকিবের মা শারমিন জামান চৌধুরী মামলা করেন। এরপর মধ্যরাতে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে আসামি ফাহিমকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান মিরপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম।
এদিকে, মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় দু’বার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন শারমিন জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আজকে (শনিবার) সকালে খাবার নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। যানজট এড়াতে পেছনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে তালতলার আগে বউবাজারের কাছে তিনজন আমার সিএনজি আটকায়। তাদের মধ্যে দু’জন বয়স্ক ও একজন অল্প বয়সী। তারা আমাকে বারবার সিএনজি থেকে বেরোতে বলছিল। তারা জিজ্ঞেস করে, “আপনি কি মামলা করেছেন? কেন করেছেন? মামলা তুলে নেন। এখন পা ভাঙলেও ছেলে আছে, মামলা না তুললে ছেলেই থাকবে না।”’ হুমকি দিচ্ছিলেন আসামি ফাহিমের মামাতো বোন জামাই তোতা মিয়া হুমকি দেন বলে জানান শারমিন জামান।
তিনি বলেন, ‘রাস্তায় হুমকি দেওয়ার পর হাসপাতালেও এসে সেলিম নামের একজন হুমকি দিয়ে গেছে। সে শেওড়াপাড়ায় থাকে। সেলিম আমাকে ডেকে নিয়ে বলে,‘দেখেন, মামলা না করাই ভালো। আপনার মেয়ে কোন স্কুলে পড়ে তা আমরা জানি। জীবনের মায়া সবারই আছে। মামলা তুলে নেন।’ সেলিম এভাবে হুমকি দিতে থাকলে হাসপাতালে থাকা অন্যদের ডেকে নিলে সেলিম বেরিয়ে যায় বলে জানান রাকিবের মা শারমিন জামান।
ছেলের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাকিব এখনও মেডিক্যালে আছে। বাইরে ক্ষত হওয়ার কারণে প্লাস্টার করতে পারছেন না চিকিৎসকরা। না শুকানো পর্যন্ত প্লাস্টার করা যাবে না। কী করা হবে কালকে জানাবে ডাক্তার। তবে বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে,তার পায়ের হাড় ভেঙে ও ফেটে গেছে।’
/আরজে/এএম
আরও পড়ুন:
বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের পা ভেঙে দিয়েছে বখাটেরা








