আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় প্রগতিশীল ছাত্রজোট। রবিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা এ ঘোষণা দেন।
আগামী ৮ আগস্ট দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এছাড়া ১১ আগস্ট বিকাল ৪টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাবেক ছাত্ররাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষদের নিয়ে সংহতি সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তারা।
উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য গত ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সিনেটের বিশেষ অধিবেশনের সময় শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তাদের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নির্যাতনবিরোধী সেলে অভিযোগপত্র প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন। তিনি বলেন, ‘গত ২৭ বছরে তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে একবারের জন্যও ডাকসু নির্বাচন হয়নি। সারাদেশের ছাত্র সংসদের চিত্রও কম-বেশি একই। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। চলছে হল দখল-সিট দখল, ছাত্রদের জোরপূর্বক দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা প্রদান ও ভিন্নমতকে দমনের অপচেষ্টা। নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন থাকলে বিভিন্ন হলে বা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা অনেক কঠিন হতো।’
ডাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে নিজেদের নেতৃত্বে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে আন্দোলন জোরদারের কথা জানান প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক। এরপরও দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা, ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে আন্দোলনরত জোট নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাতটি কলেজের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ২০০ জনের নামে পুলিশের দায়ের করা মামলা।
রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জি.এম জিলানী শুভ ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ-মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল কবীর, ছাত্র ঐক্য ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার আল ইমরান প্রমুখ।
/জেএইচ/








