১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে পথে ঘাতকের ট্যাঙ্ক গিয়ে জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল, সে পথেই আলোর মিছিল করেছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। সোমবার (১৪ আগস্ট) বিকালে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠন এই মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় মিছিলটি জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। সমাবেশে ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোর মিছিলের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য কাজী রোজি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, সহসভাপতি মিজান রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাসেদুজ্জামান শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমা আক্তারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, ‘১৯৭৫ সালে এই রাস্তা দিয়ে ট্যাঙ্ক নিয়ে গিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে সহপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। জাতিকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই জাতির জনককে হত্যা করা হয়। মশাল মিছিলের মধ্যদিয়ে আমরা এর আলোয় আলোকিত হতে চাই। যে রাস্তা দিয়ে গিয়ে ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, সে রাস্তা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা আলোর মিছিলের আয়োজন করেছে। তাদের স্বাগত জানাই।’
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করার জন্য ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, তাকে স্বাগত জানাই। এই দেশ একদিনে জন্ম নেয়নি। ১৯৪৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু দেশ অর্জনের জন্য সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, ১৪ বছর জেল খেটেছিলেন। তার নির্দেশেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। কিন্তু আজ আমরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।’
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতি কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। তার এই পর্যবেক্ষণে আমরা দুঃখভারাক্রান্ত। যদি জাতির জনকের জন্ম না হতো, তিনি স্বাধীনতার ডাক না দিতেন, তাহলে দেশ স্বাধীন হতো না। আর যারা এই সত্য স্বীকার করে না, তারা বাঙালি না।’
সমাবেশে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজি তার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে যেন এক খণ্ড বাংলাদেশ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলছেন— মাগো যদি আর কয়েকটা বছর আগে জন্ম দিতে, তাহলে আমরাও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারতাম। এই মিছিল— আলোর মিছিল, মশালের মিছিল, মানুষের মিছিল। এই মিছিলের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক রাজপথ।’
আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। সবাই একত্রিত হয়ে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, যেন জামায়াত শিবির রাজাকার আলবদররা আর কোনও ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে না পারে।’
মিছিলে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাকিল উদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর এই দিনে এই রাস্তায় আলোর মিছিল করি। এই সংগঠন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আরও এগিয়ে যাবে। পরবর্তী প্রজন্ম এর আলোয় আলোকিত হবে।’
এছাড়া মিছিলে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
/এমটি/এসএমএ/








