বগুড়া কারাগারে বিলাসী জীবনযাপন: তুফানকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটিতে স্থানান্তর

বগুড়া প্রতিনিধি
১৯ আগস্ট ২০১৭, ২০:১০আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ২১:২৯

ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত তুফান সরকার (ফাইল ছবি) বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে তাকে বগুড়া কারাগার থেকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলা ট্রিবিউনে বগুড়া জেলে তুফান সরকারের বিলাসী জীবনযাপন ও তাকে নিয়মিত ফেনসিডিল সরবরাহের সংবাদ প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজশাহীর ডিআইজি প্রিজন আলতাফ হোসেনকে বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক ছাত্রীকে ভালো কলেজে ভর্তির নামে তুফান সরকার গত ১৭ জুলাই বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুরের বাড়িতে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। বাড়িতে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ছাত্রী বিষয়টি তখন নিজের মাকেও বলেননি। উল্টো প্রতিশোধ নিতে তুফানের স্ত্রী আশা খাতুন, শ্যালিকা পৌর কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি ও শ্বাশুড়ি রুমি খাতুনের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই ওই ছাত্রী ও তার মাকে রুমকির বাদুড়তলার বাড়িতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছাত্রীকে মারধরের পর আতিক, দিপু, রূপম, মুন্না ছাত্রী ও তার মাকে চার ঘণ্টা নির্যাতন করে। প্রথমে নিজেরা কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দেয়। এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে নাপিত ডেকে মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর তাদের বগুড়া ত্যাগে ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেশির সহযোগিতায় তারা বেঁচে যান। রাতে তাদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই ছাত্রীর মা সদর থানায় তুফান ও রুমকিসহ ১০ জনের নামে ধর্ষণ ও নির্যাতনের পৃথক মামলা করেন।

সদর থানা পুলিশ পরে ১১ জনকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ কয়েকদফা রিমান্ডে নিলেও তুফান, আশা, রুমকি ও রুমির স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেননি। এ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত নতুন করে রিমান্ড না দিলে ৬ আগস্ট থেকে তুফান ও অন্যরা বগুড়া জেলে আছে। ৭ আগস্ট হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার পর শিশু আদালতের নির্দেশে ওই ছাত্রীকে রাজশাহীর সেফহোম ও তার মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।

এদিকে, জামিনে ছাড়া পাওয়া কয়েকজন হাজতি ও জেলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওইদিন (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টায় সদর থানার পুলিশ রাজশাহী নেওয়ার জন্য মা ও মেয়েকে গ্রহণ করে। এর আগে জেলে তুফানের সঙ্গে ছাত্রীর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া কারা হাসপাতালে থাকা তুফান ও অন্যরা দর্শনার্থী কক্ষে ইচ্ছামতো স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সাক্ষাতের সুযোগ পায়। শুধু তাই নয়; বগুড়া জেলের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েকজন রক্ষীর সহযোগিতায় দর্শনার্থী কক্ষে স্যালাইনের পাইপের মাধ্যমে তুফান ফেনসিডিল সেবন করে। গত ১২ আগস্ট বকশিশ কম পাওয়ার ক্ষোভে এক নারীরক্ষী বিষয়টি ফাঁস করে দিলে সেখানে ফেনসিডিল সেবন বন্ধ হয়। এরপর শুরু হয় জেলের দক্ষিণ পাশের প্রাচীরের ওপার থেকে ফেনসিডিলের বোতল নিক্ষেপ। সেখান থেকে বোতল কুড়িয়ে তুফানের কাছে পৌঁছানো হতো। বকশিশ নিয়ে কারারক্ষীদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি হলে এক পক্ষ ১৬ আগস্ট বিকালে এক বোতল ফেনসিডিলসহ বাবুল নামে এক হাজতিকে আটক করে।

জানতে চাইলে জেল সুপার মোকাম্মেল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘তুফানের সঙ্গে ছাত্রীর সাক্ষাৎ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে ১২ আগস্ট দর্শনার্থী কক্ষে তুফানকে ফেনসিডিল খাওয়ানোর চেষ্টা করলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ১৬ আগস্ট বিকালে প্রাচীরের ওপার থেকে ছুড়ে দেওয়া ফেনসিডিলের বোতলসহ এক হাজতি আটক হয়েছে। তাকে শাস্তি হিসেবে সেলে রাখা হয়।’ জেল সুপার আরও বলেন, ‘তুফান হাসপাতালে নয়; সাধারণ ওয়ার্ডে থাকেন। আর এ ঘটনায় তিনি বা কোনও কারারক্ষী জড়িত ছিল না। তাই কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।’

এদিকে, জেলে তুফানের রাজকীয় জীবন নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে রিপোর্ট হলে তাকে হাসপাতাল থেকে ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া, তুফান ও অন্য আসামিদের সাক্ষাতের ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হয়েছে। কারা হেডকোয়ার্টার থেকে রাজশাহীর ডিআইজি প্রিজন আলতাফ হোসেনকে এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি শনিবার দুপুরের পর বগুড়ায় পৌঁছেছেন। এছাড়া, তুফান সরকারকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বগুড়ার জেল সুপার মোকাম্মেল হক এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

/এএম/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম