ভাটারা থানা পুলিশের জব্দ করা একটি গাড়ি নিজের দাবি করে হাইকোর্টে রিটকারী কথিত মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে প্রকৃত মালিককে বিচারিক আদালতে আবেদন করে আইন অনুসারে গাড়িটি ফেরত নিতে বলেছেন এবং একই সঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে ভাটারা থানার ওসিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি কাজী রেজা- উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। গাড়ির মালিক দাবিদার মোমিন উদ্দিনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন।
বুধবার (২৩ আগস্ট) ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন জানিয়েছিলেন, রাজধানীর কুড়িলের ব্যবসায়ী মো.মোমিন উদ্দিন গত ১৩ জুলাই ভাটারা থানা এলাকার একটি শপিং মলের সামনে গাড়ি রেখে (টয়োটা অ্যালিয়ন ১৫০০সিসি, ঢাকা মেট্রো গ-২৭-৮৯৫৫) শপিং করতে যান। পরে এসে তিনি দেখেন গাড়িটি নেই। খবর নিয়ে জানতে পারেন ভাটারা থানার এসআই মো.শহীদুল ইসলাম গাড়িটি থানায় নিয়ে গেছেন। এরপর মো.মোমিন উদ্দিন গাড়ির মালিকানা এবং বিআরটিএ’র প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের পরও থানাপুলিশ গাড়িটি ফেরত দেয়নি।এমনকি ৭ আগস্ট গাড়ি ফেরত পেতে ওসি বরাবর লিখিত আবেদন করলেও তা গ্রহণ করেননি ওসি।
ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন জানান, গত ২২ আগস্ট ব্যবসায়ী মো.মোমিন উদ্দিন গাড়ি ফেরত পেতে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন। আদালত প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন। রুলে গাড়ি জব্দ রাখা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। একইসঙ্গে জব্দ গাড়িসহ ভাটারা থানার ওসিকে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে হাজিরের নির্দেশ দেন।
এ আদেশ অনুসারে বৃহস্পতিবার সকালে হাইকোর্টে হাজির হন ভাটারা থানার ওসি কামরুজ্জামান ও এসআই শহীদুল ইসলাম।ওসির পক্ষে শুনানিতে তাপস কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘১৩ জুলাই পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি জব্দ করে। পরের দিন বিচারিক আদালতে জব্দ তালিকা দাখিল করে। এদিকে গাড়ির মালিকের পরিচয় জানতে চেয়ে পুলিশ বিআরটিএ-কে চিঠি দিলে তারা জানায়, গাড়িটির মালিক মাহজাবিন চৌধুরী। এছাড়া গাড়ির মালিক দাবিদার মোমিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভাটারা ও দাউদকান্দি থানায় তিনটি মামলা আছে।’
এ সময় আদালত মোমিন উদ্দিনের আইনজীবীর কাছে মালিকানা বিষয়ে জানতে চান। তখন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন বলেন,‘ গাড়িটি নোবেল কার হাউজ থেকে কেনা হলেও মোমিন উদ্দিন কিনেছেন মাহজাবিন চৌধুরীর কাছ থেকে। আমরা বিআরটিএ’র কাছে মালিকানা হস্তান্তরের আবেদন করেছি। সব ধরনের ফি পরিশোধ করেছি।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘কিন্তু চুক্তিনামা, মালিকানা হস্তান্তরের কিছুই তো দেখাতে পারছেন না। বিআরটিএ বলছে, গাড়ির মালিক মাহজাবিন চৌধুরী। ’
ওসি কামরুজ্জামান জানান, গাড়িটি নিম্ন আদালতের আদেশে থানায় জব্দ আছে।
এরপর আদালত তিন মামলায় ব্যবসায়ী মোমিন উদ্দিন জামিনে আছেন কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেন। এই সময়ে অর্থাৎ বেলা দু’টা পর্যন্ত তাকে কোর্ট পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। পরে তিন মামলায় জামিনে আছেন এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত আদেশ প্রদান করেন।
তাপস কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘কথিত মালিক মোমিন উদ্দিন সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। তিনি গাড়ির প্রকৃত মালিক নয়। এ কারণে আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।আর বিচারিক আদালতে আবেদন করে গাড়ির মূল মালিক আইন অনুসারে গাড়িটি ফেরত নিতে পারবেন।








