রাজধানীর পশুর হাটগুলোয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু, ছাগল, মহিষ আসছে। তবে এখনও জমে উঠেনি হাট, ক্রেতারা শুধু পশুর দামের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আবার, হাটে এসে অনেকেই খোঁজ নিচ্ছেন সবচেয়ে বেশি দামের কিংবা সবচেয়ে বড় গরু কোথায়– সেটি দেখার জন্য। গাবতলী ও আফতাবনগর পশুর হাটে গিয়ে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) দেখা গেছে এমন চিত্র। এসব হাটের বেপারিরা বলছেন, হাটে এখনও ক্রেতা কম, দর্শনার্থী বেশি।
রাজধানীর পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এরইমধ্যে রাজধানীর অস্থায়ী হাটগুলোতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খামারিরা তাদের পালিত গরু-ছাগল নিয়ে হাটে আসছেন। তারা বলছেন, দু’একদিনের মধ্যেই পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে হাটগুলো। এখনও তেমন বেচাবিক্রি শুরু হয়নি। ক্রেতারা শুধু হাট ঘুরে ঘুরে পশু দেখছেন, কেউ কেউ দরদামও করছেন। উট, দুম্বা, বড় ও দামি গরুরও খোঁজ কেউ কেউ। অনেক এসে জানতে চান, বড় গরু কোথায় আছে। তাদের এ আগ্রহ মূলত পশু দেখার জন্য, কেনার জন্য নয়।
গাবতলীতে মঙ্গলবার ‘কালো বাবু’ নামের একটি গরু ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। সাড়ে ১৫ লাখ টাকা দাম হাঁকছেন গরুটির মালিক। অন্যদিকে, আফতাবনগরে সবার মনোযোগ কেড়েছে ‘কালা পাগলা’ নামের একটি গরু। ১০ লাখ টাকা দাম হাঁকা হয়েছে এটির। গাবতলী ও আফতাবনগর পশুর হাটে দেখা গেছে, রাখালরা কেউ ভেজা কাপড় দিয়ে গরুর শরীর মুছে দিয়ে তেল মাখাচ্ছেন। কেউ গরুর খড়-বিছালি গোছগাছে ব্যস্ত। এসব পশুর হাটে দেশি গরু ছাড়াও ভারতের গরুও আছে। এছাড়া, ছাগল, মহিষ, উট, দুম্বাও উঠেছে।
পাবনা থেকে ১০টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন রফিকুল ইসলাম ও আসাদ মিয়া। তারা বলেন, ‘চারদিন হলো হাটে এসেছি, কিন্তু এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। ৮০ হাজার টাকা থেকে বিভিন্ন দামের গরু আছে আমাদের কাছে। কিন্তু যারা আসছেন, তারা শুধু খোঁজখবর নিয়ে যাচ্ছেন।’ ক্রেতারাও বলছেন, গরু এসেছে, তবে হাট জমে উঠেনি। দামও একটু বেশি। আরও গরু আসলে দাম আরেকটু কমে আসবে বলেও আশা করছেন তারা। মাজেদুল মজিদ নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘অনেক গরু এসেছে, তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে, না হলে এখনই কিনে নিতাম।’
পশুর হাটের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রয়েছে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ারও। হাটের ভেতরে বিভিন্ন রাস্তায় কাদাপানি থাকায় ক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। মফিদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, হাটে হাজার হাজার মানুষ আসবে অথচ এখনই রাস্তা কাদাপানিতে একাকার। এত মানুষ আসবে অথচ রাস্তাগুলো ঠিক করা হয়নি। যেখানে কোটি টাকার বাণিজ্য হবে, সেখানে এত অবহেলা কেন?
কুষ্টিয়া থেকে ৮টি গরু নিয়ে গাবতলী এসেছেন ফারুক হোসেন। এরমধ্যে একটি গরুর নাম ‘কালো বাবু’। লম্বায় প্রায় ৯ ফুট ফ্রিজিয়ানা জাতের এই গরু নিজেই খামারে পালন করেছেন ফারুক হোসেন। তার বাকি গরুগুলোর দাম দেড় লাখ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকার মধ্যে। ফারুক হোসেন বলেন, ‘সারাদিন শত শত মানুষ আমার কালো বাবুকে দেখতে আসে। ছবি তোলে, ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছে।’ ‘কালো বাবু’ নামটি নিজেই রেখেছেন ফারুক। তিনি বলেন, ‘গরুটির গায়ের রং কালো, আর তার চালচলন বাবুদের (সাহেব) মতো। স্বভাবও শান্ত, কখনও কাউকে আঘাতও করেনি। তাকে নিয়ে কোনও ঝামেলাও হয়নি কোনোদিন।’
আফতাবনগরে ওঠা ‘কালা পাগলা’ নামের গরুটির এসেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা থেকে। শহীদুল হক নামের খামারি তার খামারে চার বছর পরম আদর, যত্নে লালন পালন করেছেন গরুটিকে। হাটের আড্ডা গলির মোড়ের একটি গাছের নিচে গরুটি আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। শহীদুল এর দাম হেঁকেছেন ১০ লাখ টাকা। এই বিক্রেতার দাবি, এই হাটে তার গরুটিই দেশীয় গরুর মধ্যে সবচেয়ে বড়। ‘কালা পাগলা’র গায়ের রঙ কালো। পশুটিকে দেখতে উৎসুক জনতা ও কোরবানিদাতাদের অনেকেই ভিড় করছেন। ছবি তোলার পাশাপাশি কেউ কেউ দর-দামও করছেন। তবে এখনও সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি দাম কেউ বলেনি। কমবেশি ৮ লাখ টাকা হলে বিক্রি করে দেবেন বলে জানিয়েছেন গরুটির মালিক শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘গত চার বছর ধরে গরুটিকে নিজের মতো করে লালন পালন করেছি। একেবারেই দেশীয় পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের পরামর্শে মোটাতাজা করেছি। কোনও বিষাক্ত ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। এর পেছনে অন্তত ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া নিজের শ্রম তো আছেই।’








