মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ‘গণহত্যা’র ঘটনায় দেশটির নেত্রী অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠন শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের ভূমিকায়ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। শনিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘের উদ্যোগে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও গণহত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা এই দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক নকুল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘মিয়ানমার ইস্যুতে ভারত যে ভূমিকা নিয়েছে তা এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ইমেজ ক্ষুণ্ন করছে। মানবতাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে সারা দুনিয়ায় ভারতের অবস্থান শীর্ষে। কিন্তু মিয়ানমার সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পরিবর্তে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ।’ সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক সুজন দে বলেন, ‘অং সান সু চিকে শান্তির জন্য নোবেল পুরুস্কার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন নিজের দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাচ্ছেন। তিনি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য নন। তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়া উচিত।’
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিকতার কারণে আজ রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে আশ্রয় পেয়েছেন। কিন্তু সরকার তো চিরস্থায়ীভাবে রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দিতে পারবে না। তাই মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে সেজন্য জাতিসংঘকে কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে।’ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের একক সমস্যা নয়। এ মানবিক সমস্যা সমাধানে আসিয়ান,ওআইসিসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব রাষ্ট্র ও সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নকুল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন ভোরের ডাক’র সম্পাদক কে. এম. বেলায়েত হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন,অমলেন্দু দাশ অপু, রমেশ দত্ত, সেবা সংঘের কেন্দ্রীয় নেতা ইন্দ্রজিৎ দাশ, ডি.কে সমির, রিনা সরকার (লক্ষী) প্রমুখ।








