‘ডন ভাই’ ও ‘জঙ্গি ডন’ একই ব্যক্তি

রাফসান জানি
০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:৫৯আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০১:৪৮

জঙ্গি

র‌্যাবের সন্ধানে থাকা ‘ডন ভাই’ ও ‘হোয়াইট কালার জেএমবি’র আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ‘জঙ্গি ডন’ একই ব্যক্তি। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মিরপুরের দারুসসালাম এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’য় অভিযানের আগে আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টাকালে ‘ডন ভাই’ নামে এক ব্যক্তির কথা র‌্যাবকে জানিয়েছিল নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহ।

আর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে আটক দু’জনের একজন ‘হোয়াইট কালার জেএমবি’ সদস্য আনোয়ার হোসেন। যার সঙ্গে নব্য জেএমবি’র শীর্ষ নেতা ‘জঙ্গি ডন’ নামেরও একজন ছিল বলে জানায় সিটিটিসি।

‘জঙ্গি ডন’ সম্পর্কে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, “ডন ভাই’ ও ‘জঙ্গি ডন’ একই ব্যক্তি। আমাদের কাছে যা তথ্য আছে তা এখনই জানানো সমীচিন মনে করছি না। তাকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাই আমরা তাকে নিয়ে এর বেশি বলতে চাচ্ছি না। এতে তাকে গ্রেফতারে ব্যঘাত ঘটতে পারে।’

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শুরু করে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত মিরপুরের দারুস সালামে বাঁধন সড়কের ২/৩-বি নম্বর বাড়ি ‘কমল প্রভা’য় অভিযান চালায় র‌্যাব। বাড়িটি ঘিরে রাখার পর আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ চালিয়ে মারা যায় জেএমবি’র সারোয়ার-তামিম গ্রুপের ‘আল-আনসার’ সদস্য আবদুল্লাহসহ সাত জন।

অভিযান চলাকালে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আব্দুল্লাহ ‘হোয়াইট কালার জেএমবি’। সে সরাসরি নাশকতার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতো। তার বাসায় সারোয়ার-তামিম গ্রুপের শীর্ষ নেতা সারোয়ার জাহান, তামিম চৌধুরী, সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজসহ অনেক বড় বড় জঙ্গি আশ্রয় পেয়েছিল।

আত্মঘাতী বিস্ফোরণে আব্দুল্লাহ মারা যাওয়ার আগে তাকে আত্মসমর্পণের চেষ্ঠা করে র‌্যাব। তখন তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা হয় র‌্যাব সদস্যদের। আর তখনই ‘ডন ভাই’ নামের একজন জঙ্গি নেতার বিষয়ে র‌্যাবকে জানিয়েছিল আবদুল্লাহ।

এ বিষয়ে র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আত্মসমর্পণের চেষ্টার সময় আমরা আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছি। তখন সে ‘ডন ভাই’ নামের একজন ব্যক্তির নাম বলেছে। আমরা ‘ডন ভাই’ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। তার কোথায়, কী সংশ্লিষ্টতা আছে, তা খোঁজার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আব্দুল্লাহর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে আরও পাঁচ থেকে ছয় জন কাজ করতো, তাদের সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে, র‌্যাবের অভিযানে নিহত আবদুল্লাহ ও সিটিটিসি’র গ্রেফতার করা আনোয়ার দু’জনই ‘হোয়াইট কালার জেএমবি’। যারা প্রত্যক্ষভাবে কোনও নাশকতায় অংশ নেয়নি। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করেছে। বিভিন্ন বৈধ ব্যবসার আড়ালে তারা জঙ্গি তৎপরতা চালায়। ফলে তাদের খুব সহজে চিহ্নিত করা যায়নি। তবে তাদের ব্যাপারে খুব সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদের ব্যাপারে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা বৈধ ব্যবসার আড়ালে জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। হামলা বা নাশতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকলেও সহায়তা করে। এমন লোকদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্ঠা করছি।’

/এসএমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম