রাজধানীর দক্ষিণখানে ওরিয়ন সিকিউরিটি সার্ভিসের নিরাপত্তাকর্মী নূরুল ইসলাম বাবুকে (২৫) বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী লিটন মোল্লা নিহত বাবুর সহকর্মী ও পাশাপাশি বাসায় ভাড়া থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ রোকোনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ রোকোনুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ওরিয়ন সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মী নুরুল ইসলাম বাবু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লিটন মোল্লা ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনেই কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। খুনের ঘটনায় বাবুর স্ত্রীর বড় ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বাবু ও লিটন মোল্লা দুজনেই একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। একই মালিকের ভাড়া বাসায় পাশাপাশি থাকতেন। এরই একপর্যায়ে লিটন মোল্লার স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বাবু। বৃহস্পতিবার রাতে লিটন মোল্লা নিজ রুমে ঢুকে স্ত্রীর সঙ্গে বাবুকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এরপরই সে ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলেই নিহত বাবুর লাশ লুকানোর চেষ্টা করে।’
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণখান থানার মধ্য আজমপুর এলাকার চার নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর রোডের মাথায় মুন্সি মার্কেটের ইয়াজ আলী মাস্টারের ছোট ভাইয়ের ২৭ নম্বর বাড়ি থেকে বাবুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত বাবু, খুনের অভিযোগে গ্রেফতার লিটন মোল্লা ও আমি একই প্রতিষ্ঠান-ওরিয়ন সিকিউরিটি সার্ভিসের অফিস সহকারী পদে চাকরি করি। নিহত নূরুল ইসলাম বাবু আমার ভগ্নিপতি। তাদের ঘরে আড়াই বছর বয়সী সাদিয়া ও ১০ মাস বয়সী তানিয়া নামে দুই কন্যা সন্তান আছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা সবাই একই এলাকার ৩ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডে, আমার বাসায় বেড়াতে আসে। রাতের খাবার খেয়ে বাবু একাই তার বাসায় চলে যান। পরে রাত একটার দিকে অফিসের ম্যানেজার আমার ফোনে কল করে বাবুর খুনের ঘটনা জানান। এরপর ওই বাসায় গিয়ে দেখি, লিটন মোল্লার ঘরের খাটের নিচে পড়ে আছে বাবুর রক্তাক্ত লাশ। এসময় আশপাশের মানুষ ওই বাসা ঘিরে রেখেছিল, তাই লিটন পালাতে পারেনি। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং লিটন ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
নিহত নূরুল ইসলাম বাবুর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর থানার নড়িয়া গোদাইল গ্রামে। তার পিতার নাম ওমর আলী।








