সরকারি মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় তিন কৌশলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপচেষ্টা করে যাচ্ছে এ কাজে জড়িত অসাধু চক্র। শুক্রবার (০৬ সেপ্টেম্বর) মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করার তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেই তথ্য অনুয়ায়ী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে তাদের একাধিক টিম। বৃহস্পতিবার (০৫ অক্টোবর) মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
বিষয়টি তদন্তে জড়িত গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে ফেসবুকে যোগাযোগ করে ভর্তিচ্ছুদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে অসাধু চক্রটি। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কয়েকটি ধাপে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চুক্তি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে তিন কৌশলে প্রশ্নফাঁস করা হবে জানিয়ে বিভিন্ন অংকের টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তারা।
অনলাইন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ‘অফার’ দেওয়া হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার বিষয়ে। এক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ শিক্ষার্থীদের কোনও গোপন জায়গায় রেখে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহ করে অল্প সময়ের মধ্যে মুখস্থ করিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর কথাও বলছে এই চক্রের সদস্যরা।
একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে এমন একাধিক সিন্ডিকেট শনাক্ত করা হয়েছে। যাদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই পদ্ধতিতে প্রত্যেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তি করার তথ্য পেয়েছেন তারা। প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর মূল সনদ ও নম্বরপত্র নিজেদের কাছে জমা নিয়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছে চক্রটি।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রশ্নফাঁসের দ্বিতীয় কৌশল হচ্ছে– অত্যাধুনিক প্রযুক্তি মাধ্যমে। এক্ষেত্রে স্মার্টকার্ডের আদলে একটি ডিভাইস ও ছোট্ট আকৃতির ব্লুটুথ সরবরাহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থী যন্ত্র দুটি নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার পর পরীক্ষা শুরু হলে বাইরে থেকে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যরা ওই যন্ত্রে সেট কোড ও উত্তর কোড পাঠাবে।
এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ওই যন্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অগ্রিম ১৫ হাজার টাকা জমা নিচ্ছে তারা। এছাড়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর কাগজপত্র জমা নিচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চুক্তির নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে সদনপত্র ও নম্বরপত্র ফেরত নিতে হবে।
তৃতীয় কৌশলটি হচ্ছে– পরীক্ষার আগ মুহূর্তে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার অঙ্গীকার। এজন্য অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে ভর্তিচ্ছুদের তালিকা করেছে প্রতারকরা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ফেসবুক গ্রুপেই বেশিরভাগ প্রতারক চক্র সক্রিয়। এরা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে নগদ যা পায় তাই নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইডি ব্লক করে দিয়ে নতুন কাউকে খুঁজতে থাকে। এ ধরনের প্রায় পাঁচশ ফেসবুক আইডি গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
প্রশ্নপত্র ফাঁস সিন্ডিকেটের এসব কৌশল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহমুদ নাসের জনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নানা ধরনের অপতৎপরতা শুরু করেছে বিভিন্ন প্রতারক চক্র। বিভিন্নজনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মতো কোনও আলামত এখনও খুঁজে পাননি গোয়েন্দারা।’








