এনটিসিসি’র বিজ্ঞপ্তি মানেনি তামাক কোম্পানিগুলো

জাকিয়া আহমেদ
০৯ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৫৬আপডেট : ৩১ মে ২০২২, ১০:৪৫

এনটিসিসি’র বিজ্ঞপ্তি মানেনি তামাক কোম্পানিগুলো গত ৪ জুলাই জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের উপরিভাগে সচিত্র সতর্কবার্তা ছাপতে হবে। তবে তা মানেনি তামাক কোম্পানিগুলো। বরং গত ২৪ আগস্ট রাজস্ব বোর্ড থেকে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি লিখিত আবেদন করা হয়।  

ওই আবেদনে জানানো হয়, সিগারেটের প্যাকেটের উপরিভাগে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ছাপতে হলে বিশেষ মেশিন আমদানি করা প্রয়োজন। কিন্তু কোম্পানিগুলোর সে মেশিন নেই। এ কারণে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ছাপানো সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা আগামী এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে অনুরোধ করা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে।

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট এনবিআর’র উদ্যোগে সিগারেট কোম্পানিসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং এনটিসিসির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বৈঠক হয়। সে বৈঠকে সচিত্র সতর্কবার্তা বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের আলোকে এনটিসিসির গণবিজ্ঞপ্তি বাতিল করা বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই বলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং এনটিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তির বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তারা বলছেন, ‘রাজস্ব কমে যাওয়ার দোহাই দিয়ে সিগারেট কোম্পানিগুলো বিগত বছরগুলোতে যেমন এনবিআরকে তাদের পক্ষে নিয়েছিল, এ বছরও তার প্রতিফলন হয়েছে। আর তারই উদাহরণ, এক বছরের জন্য সচিত্র সতর্কবর্তা স্থগিত করে স্বাস্থ্য সচিবকে দেওয়া রাজস্ব বোর্ডের আবেদনপত্র।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও এনটিসিসি’র সমন্বয়ক মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সব ধরনের তামাক পণ্যের প্যাকেটের নিচের অংশে সচিত্র সতর্কবার্তার পরিবর্তে প্যাকেটের বা কৌটার ওপরের অংশের ৫০ শতাংশ জায়গা জুড়ে সচিত্র সতর্কবার্তা বা ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ছাপতে হাইর্কোটের আদেশ ছিল। এ বিষয়ে আমরা একটি গণবিজ্ঞপ্তিও দিয়েছিলাম, প্যাকেটের উপরের অংশে সচিত্র সর্তকবার্তা ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় বা বাজারজাত করা যাবে না বলেও বলা হয়েছিল তাতে।’ 

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস)-২০০৯ অনুসারে, বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (৪ কোটি ১৩ লাখ) তামাক সেবন করেন। যার মধ্যে ২৩ শতাংশ (২ কোটি ১৯ লাখ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন। গ্লোবাল ইয়োথ টোব্যাকো সার্ভে-২০১৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী বিদ্যালয়গামী ছেলে-মেয়েদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মারা যায় ৫৭ হাজার মানুষ, পঙ্গুত্ব বরণ করে ৩ লাখ ৮২ লাখ মানুষ।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিগারেটস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) চেয়ারম্যান গোলাম মাঈনুদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারছি না। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল নই।’

প্রসঙ্গত, সরকার ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) এবং এ সংক্রান্ত বিধিমালা হয়েছে ২০১৫ সালে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উভয় পাশে মূল প্রদর্শনী তল বা যে সকল প্যাকেটে দুটি প্রধান পাশ নেই সেসব প্যাকেটের মূল প্রদর্শনী তলের উপরিভাগে অনূন্য শতকরা পঞ্চাশ ভাগ পরিমাণ স্থানজুড়ে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কে, রঙিন ছবি ও লেখা সম্বলিত, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলায় মুদ্রণ করতে হবে।’

জানতে চাইলে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলো সুকৌশলে সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছে। নিজেদের সুবিধার জন্য তারা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থারও আশ্রয় নিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
যশোরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ
জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হবে: পুলিশ সুপার
যশোরের আস্তানায় জঙ্গি মারজানের বোন থাকতে পারে: ডিআইজি

/এমও/এসএনএইচ/
সম্পর্কিত
তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি: প্রধানমন্ত্রী
তরুণদের রক্ষায় তামাক পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান প্রজ্ঞার
তামাকপণ্যে কর বাড়াতে ২৬ সাংসদের ডিও লেটার
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম