মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করায় এখানকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। রোহিঙ্গাদের কারণে আগামীতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে পর্যটন ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যটকদের যাওয়ার পরিবেশ নেই। পাহাড়-জলাশয় নষ্ট হচ্ছে। যা (পরিস্থিতি) উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে।
বৈঠকের পর মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ড. হাছান আরও বলেন, ‘মানবিক কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণও যাচ্ছে। কিন্তু তাদের জন্য জ্বালানির কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রাকৃতিক বন থেকে তারা জ্বালানি সংগ্রহ করছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।’
টেকনাফ রুটের গাছগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী এপর্যন্ত শুধুমাত্র বনের ক্ষতি দেড়শো কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পরিবেশের ক্ষতির হিসাব অনেক বেশি।’ কমিটি এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে বলে তিনি জানান।
এর আগে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের কারণে এ পর্যন্ত ১৫০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। পাহাড়, জলাশয়, সমুদ্র সৈকতসহ পরিবেশের অন্যান্য খাতেরও ক্ষতি হয়েছে।
বন ছাড়াও পরিবেশের অন্যান্য খাতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করে আগামী বৈঠকে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কমিটি বনের ক্ষতি কমাতে রোহিঙ্গাদের জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা সরবরাহের সুপারিশ ও প্রয়োজনে তাদের জন্য বায়োগ্যাস প্লান্ট বসানোর পরামর্শ দিয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির সদস্য টিপু সুলতান বলেন, ‘এটা সম্ভব হলে বনের ক্ষতি ৫০ শতাংশ কমে আসবে। রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার পর যেসব এলাকা ফাঁকা হচ্ছে, সেখানে নতুন করে বনায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।’
এছাড়া, বৈঠকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও সেন্টমার্টিন এলাকার পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত জলবায়ুর ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তি এবং ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ, গোলাম রাব্বানী, ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, টিপু সুলতান ও ইয়াসিন আলী অংশ নেন।








