প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে কেন্দ্র করে দেশে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সরকার দলীয় ও সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত সংখ্যালঘু কর্মকর্তাদেরকে ভিক্টিম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ‘এস কে সিনহার জন্য গোটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব আসা অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিপন্থী’।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ‘এস কে সিনহাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আড়াই কোটি ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। তার চরিত্রের ওপর কলঙ্ক ছেপে দেওয়ার চেষ্টা চলছে ‘
তিনি বলেন, ‘সরকারের অভ্যন্তরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল মহল তার (প্রধান বিচারপতি) ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি,উন্নততর পদায়ন ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করার সর্বনাশা প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।’
লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বিগত ৭০ বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কেবল সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার মেধা, মনন ও যোগ্যতায় সাংবিধানিক অন্যতম প্রধান পদ অলঙ্কৃত করেছেন। সরকারি দল ও সরকারের একাংশের তীব্র বিরোধিতাকে অগ্রাহ্য করে প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।’
তিনি বলেন,‘যেদিন প্রধান বিচারপতি শপথবাক্য পাঠ করেন,সেদিনই সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন পরিচয়দানকারী আওয়ামী ওলামা লীগ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে বলেছিল, মুসলমান রাষ্ট্রে হিন্দু প্রধান বিচারপতি মানি না,মানবো না। প্রধান বিচারপতির জন্ম পরিচয়,ধর্ম,সম্প্রদায়,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী,উপজাতি ইত্যাদি পরিচয়ে এমনকি রাজাকারের মিথ্যা অভিধায় উল্লেখ করে বিদ্বেষমূলক সাম্প্রদায়িক উসকানিও অব্যাহতভাবে দেওয়া হয়েছে ও হচ্ছে। এমকি তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি হিউবার্ট গোমেজ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক,কাজল দেবনাথ,অ্যাডভোকেট সুব্রত দেবনাথ,জয়ন্ত সেন দীপু,জেএম ভৌমিক,মিলন কান্তি দত্ত,পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবীন্দ্র নাথু বসু,আদিবাসী নেতা সঞ্জিব দ্রং।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্রাচার্য। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সদস্য সত্য রঞ্জন, দীপংকর ঘোষ,উত্তম চক্রবর্ত্তী,পদ্মাবর্তী দেবী প্রমুখ।








