আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা যৌন সহিংসতার শিকারদের ক্ষেত্রে আইনি বিষয়ে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন নন। সংস্থাগুলোর মধ্যে জবাবদিহিতা উপেক্ষা করার প্রবণতাও রয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবে দোষীদের গ্রেফতার ও তদন্তে অনেক সময় অনীহাও দেখা যায়। এছাড়া, দেশে গণপরিসরে (পাবলিক স্পেস) নারীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনও সুনির্দিষ্ট আইন নেই।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের এক গবেষণায় এমন পরিস্থিতি উঠে এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন নন। আবার পুলিশের দায়বদ্ধতার অভাবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লাগে।
রবিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিসমূহ পর্যালোচনা’ বিষয়ক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। সংস্থাটি জানায়, এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য নারীর প্রতি যৌন হয়রানি ও অন্যান্য সহিংসতা প্রতিরোধে দেশের বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা করা। যেখানে গণপরিসরে যৌন হয়রানি ও অন্যান্য সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য বিদ্যমান নানা দুর্বলতা উঠে আসে। গণপরিসরে (পাবলিক স্পেস) নারীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশে কোনও সুনির্দিষ্ট আইন নেই। বিদ্যমান আইনে কিছু বিধান থাকলেও প্রয়োগের তারতম্যের কারণে সুফল পাওয়া যায় না। অভাব আছে সচেতনতারও।
গবেষণা প্রতিবেদনে কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে অ্যাকশনএইড। যেখানে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ব্যক্তিগত ও সর্বজনীন উভয় স্তরে যৌন হয়রানিকে একটি অপরাধ হিসেবে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত। যাতে নারীরা তাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। আরও বলা হয়, পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যেন তাতে বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলে। তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার জন্য কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘সংবিধানের ২৮, ২৯,৩২, ৩৬ ধারায় নারীর চিন্তা, কাজ, চলাফেরায় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের আইনগুলো সেই সুরক্ষা দেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নারীরা সহযোগিতা পান না। ফলে ভয়ে এখন নারীরা বাইরে যেতে চান না।’
প্রতিবেদনের অংশবিশেষ তুলে ধরার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা ২০১৭ সালেও ব্রিটিশ আমলের আইন মেনে চলছি। আবার আইনগুলো পরিবর্তন করেও সহিংসতা প্রতিরোধের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এটি খুবই হতাশাজনক।’ জাতীয় আইন কমিশনের কর্মকতা ফারজানা হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের নারীদের সহিষ্ণুতার মাত্রা অনেক। যুগোপযোগী আইন না থাকায় নারীরা খারাপ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জনপরিসরে সহিংসতা ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট আইনের দরকার। দরকার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার।’








