রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আর এ বিষয়ে সমর্থন দিতে পারেন পোপ ফ্রান্সিস। একইসঙ্গে মিয়ানমারের সেনা প্রধানের সঙ্গে পোপের আলোচনার মধ্য দিয়েও সংকট সমাধানের পথ আসতে পারে। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও।
৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসছেন পোপ ফ্রান্সিস। বাংলাদেশের আগে তিনি মিয়ানমার সফরে রয়েছেন। তার এ সফরে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলবেন বলে ভাবা হচ্ছে। তবে মিয়ানমার সফরকালে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করতে পোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমারের কার্ডিনাল চার্লস মং বো। লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি এবং দেশটির সেনাবাহিনীর আপত্তি থাকায় কার্ডিনাল চার্লস মং বো পোপকে তা উচ্চারণ করতে মানা করেছেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে পোপের ভূমিকা কী হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও বলেন, এই প্রশ্ন বারবার এসেছে। মিয়ানমার একটি দেশ, একটি দেশের মধ্যে কিছু কিছু সংবেদনশীল বিষয় থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক। তবে রোহিঙ্গা শব্দটি প্রচলিত হয়ে আসছে সারা বিশ্বে। সারা বিশ্ব যদি আরেকটি শব্দ বের করে তবে আমরা সেটিই ব্যবহার করবো। তবে পোপ মহোদয়ের কাছে বড় বিষয় হচ্ছে যারা নির্যাতিত, তিনি তাদের কথাই বলছেন, রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার করেছেন তিনি (পোপ)। তিনি বলেছেন রোহিঙ্গারা আমার ভাই এবং বোন।
কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও আরও বলেন, মিয়ানমারের সেনা প্রধানের সঙ্গে আলাপ করবেন পোপ। সেদেশের বিভিন্ন বরেণ্য ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করবেন, পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশেও আলাপ আলোচনা করবেন। শুধু রোহিঙ্গা নয়, সারা বিশ্বে এ ধরনের নির্যাতিত মানুষ অনেক আছে। সারা বিশ্বের শান্তির পক্ষে অবস্থান পোপের। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ হৃদয়ের দরজা খুলে দিয়েছে, এটি হয়তো পোপ সমর্থন করবেন বলে আমরা আশা করি। তিনি আসলে মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেন, নির্যাতিত মানুষের অধিকার, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন। ভূমির প্রতি মানুষের অধিকার, আশ্রয়ের অধিকার, শিক্ষা, শান্তি এসব নিয়ে কথা বলেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন প্রসঙ্গে প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, পোপের এ সফর অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তখন রোহিঙ্গা ইস্যু ছিল না। রোহিঙ্গা ইস্যু পরে সৃষ্টি হয়েছে, যা এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমে এক দিনের সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এসব কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়া পোপের সফর কর্মসূচিতে সংযুক্ত করা অসম্ভব হয়ে গেছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি, সরকারের অনুমোদন ও সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের একটি ছোট্ দল ঢাকায় আনতে। আমরা আশা করছি তাদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের কথা শুনবেন পোপ।
যুদ্ধের অবসান মানেই শান্তি আসা নয় উল্লেখ করে প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, শান্তি মানে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন, শান্তিপূর্ণ অবস্থান। শান্তি তো একার পক্ষে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, সবাই মিলে প্রতিষ্ঠা করতে হয়।
পোপ শান্তির বার্তা নিয়ে আসবেন উল্লেখ করে রোজারিও বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ৬ লাখের বেশি খ্রিস্টান ধর্মের বসবাস রয়েছে। এরমধ্যে ক্যাথলিক ৩ লাখ ৮৪ হাজার জন। পোপ সফরে সব ধর্ম, সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মিশবেন। এ সফরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন পোপ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দেবেন।
বাংলাদেশে সম্প্রীতি প্রসঙ্গে প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন,আমাদের বাংলাদেশে সম্প্রীতি আছে। মাঝে মাঝে একটু ঝড় ঝাপটা আসলে, বন্যা হলে ওপরে একটু ঢেউ হয়, কিন্তু তলদেশে প্রশান্তি। এটা আমাদের বৈশিষ্ট্য, এটা নষ্ট করা ঠিক হবে না। জঙ্গিবাদ বা অন্য যা কিছু আসছে এগুলো আমাদের দেশের না, এগুলো আমদানি করা। আমাদের নিজেদের হেয় করা বা ছোট করা ঠিক হবে না। বাইরে দেশের তুলনায় আমরা নিজেদের অনেক ছোট ভাবি। এদেশের ৭০ শতাংশ লোক কৃষিজীবী,দেশের বাইরে থেকেও শ্রমিকরা অর্থনীতিকে সচল রাখছে, এরাই আমাদের সম্পদ। যুবসমাজরাও এগিয়ে যাচ্ছে।








