প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপ্রত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রথমে আমলে না নিলেও ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়টিও তদন্ত করবে এই কমিটি। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিজি প্রেসের জড়িত থাকার বিষয়টিও রয়েছে আলোচনায়।
জানা গেছে, রবিবার (২৬ নভেম্বর) সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর গণিত পরীক্ষা। এর আগের দিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সবার হাতে চলে গেলে গণমাধ্যমে এ সম্পর্কিত খবর প্রকাশ হয়। এর পর প্রশ্ন ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের মহাপরিচালক এ কে এম আনোয়ার হোসেনকে প্রধান করে গঠন করা হয় চার সদস্যের কমিটি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম মঞ্জুর কাদির সোমবার (২৭ নভেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই কমিটি প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়টিও তদন্ত করবে।’
গত ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিন মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ স্রেফ গুজব। এর এক সপ্তাহের মাথাতেই সেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করতে বাধ্য হলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্য, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অর্থ হলো এর সঙ্গে বিজি প্রেসের কর্মকর্তারা জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিজি প্রেসে যাওয়ার আগে প্রস্তুত করা হয় ৬৪ সেট প্রশ্নপত্র। তারপর বাছাই করে নেওয়া হয় ৩২ সেট। তার মধ্য থেকে প্রিন্ট করা হয় আট সেট। এই আট সেটের বাইরে তো অন্য প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে না। যেগুলো বিজি প্রেসে যাচ্ছে, সেগুলোই ফাঁস হচ্ছে। আর ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলো পরীক্ষার আগের রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিজি প্রেস ছাড়া অন্য কোথাও থেকে পরীক্ষার আগের দিন বা রাতে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট কিছু এলাকার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিজি প্রেস থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম মঞ্জুর কাদির বলেন, ‘পরীক্ষার আগের দিন বা রাতে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কারণেই বিজি প্রেস সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তাই তদন্ত কমিটি সব দিক বিবেচনা করেই তদন্ত করবে। কমিটির সুপারিশ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।’
এর আগে কয়েক দফা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বিজি প্রেসের ছিদ্র বন্ধ হয়েছে। শিক্ষকরাই এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস করছেন। থেকে বিজি প্রেসের দিক থেকে বেশি নজর দেওয়া হয় কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে। শেষ পর্যন্ত আবার প্রশ্নফাঁসের তীর ঘুরে তাক হয়েছে সেই বিজি প্রেসের দিকেই।
ভুল প্রশ্নপত্র ছাপার দায় নিতে হবে
এদিকে, চলমান প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীর (পিইসি) ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি’ পরীক্ষায় এক প্রশ্নপত্রে অন্তত ২০টি বাক্য ভুল থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সিলেট বোর্ডে ইংরেজি ভার্সন প্রশ্নপত্রে এ ভুল ধরা পড়ে। ভুলে ভরা প্রশ্নপত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। প্রশ্নে ভুলের জন্য কারা দায়ী, তা খুঁজে বের করবে এই কমিটি।
অতিরিক্ত সচিব মঞ্জুর কাদির বলেন, ‘প্রশ্নপত্র এই ধরনের ভুলে জন্য সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে। এ দায় তারা এড়াতে পারবেন না।’
আরও পড়ুন-
ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে ৭০ ভাগই মিল!
প্রাথমিক সমাপনীর এক প্রশ্নপত্রে ২০ বাক্য ভুল!
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ গুজব: প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী








