আগামীকাল ১ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণ প্রার্থনায় বসবেন পোপ। এই গণ প্রার্থনায় অংশ নিতে উন্মুখ হয়ে রয়েছেন দেশের ৮০ হাজার রোমান ক্যাথলিক নাগরিক। নিজ দেশের মাটিতে রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মগুরুর প্রার্থনায় অংশ নেওয়াকে সৌভাগ্যের মনে করছেন তারা।
এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টান প্রধান কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, ‘আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সেই আশির দশকের পর থেকে আমরা অপেক্ষা করে রয়েছি প্রধান ধর্মগুরুর প্রার্থনায় অংশ নিতে। পোপ ফ্রান্সিসের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় আয়োজিত প্রার্থনায় দেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা অংশ নেবেন।’ সোহরাওয়ার্দীর এই প্রার্থনা উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ক্যাথলিক বিশপের আমন্ত্রণে সম্প্রীতি ও শান্তির বাণী নিয়ে তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন পোপ ফ্রান্সিস। বিকাল ৩টায় মিয়ানমার থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ তাকে অভ্যর্থনা জানান। ১৯৮৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পলের পর এই প্রথম আর কোনও পোপ বাংলাদেশ সফরে এলেন।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সফরেও ইয়াঙ্গুনে লাখো খ্রিস্টভক্তের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক উন্মুক্ত প্রার্থনা সভায় অংশ নেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে তিনি বলেন, ‘দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে মিয়ানমার।’ এ সময় তিনি মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সব জাতিগোষ্ঠীকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানান।
পোপের সফরসূচিতে, আগামীকাল শুক্রবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রার্থনার পর বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। পরে ভ্যাটিকান দূতাবাসে সাক্ষাতের পর আর্চবিশপ হাউসে তিনি আন্তঃধর্মীয় নেতা ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এছাড়া, আগামী ২ ডিসেম্বর সকালে মাদার তেরেসা হাউস সফরসহ খ্রিস্টধর্মের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন পোপ ফ্রান্সিস। বিকালে নটরডেম কলেজে যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। খবর: বাসস।








