দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এক মাদ্রাসা সুপারকে বাঁচাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মানেননি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের একটি আদেশে তা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, এই মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও উঠেছে। এসব কারণে ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ যাতে অমান্য না করেন, তাই প্রথমবারের মতো তাকে সতর্ক করা হচ্ছে।
বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মানিনি তা নয়, মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে প্রমাণ চেয়েছি। মন্ত্রণালয় আমাকে কাগজপত্র পাঠিয়েছে। তবে সতর্ক করার বিষয়ে কোনও চিঠি এখনও হাতে পাইনি।’
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক দুর্নীতির কারণে রাজধানীর শ্যামপুর মোহাম্মদী মাদ্রাসার সুপার নুর মোহাম্মদের এমপিও স্থগিতের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছিল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এর পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড ওই সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। এরপর মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ ওই সুপারের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করে কেন তা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না এবং কেন চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না তা জানাতে মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জানা যায়, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে অনুমোদন নেওয়ার পর ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারপরও মহাপরিচলক নির্দেশ মানেননি।
গত ১০ সেপ্টেম্বর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (মাদ্রাসা-১) মো. আ. খালেক মিঞা স্বাক্ষরিত আদেশে সাময়িকভাবে মাদ্রাসা সুপারের এমপিও স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, ‘মোহাম্মাদীয়া দাখিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাদ্রাসা সুপার নুর মোহাম্মদের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করে কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না বা চাকরি থেকে কেন অব্যাহতি প্রদান করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
এই আদেশের পর মহাপরিচালক তা না মেনে মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চান। এরপর গত ২১ নভেম্বর আরও একটি আদেশ জারি করে মন্ত্রণালয়। মহাপরিচলককে দেওয়া ওই আদেশে বলা হয়, ‘মহাপরিচালকের দফতর থেকে চাওয়া কাগজপত্র প্রেরণপূর্বক মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত পত্রের নির্দেশনা সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
পরবর্তী এই আদেশের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশের পর মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে।’ তবে শনিবার (২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মনোনয়নেও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে মহাপরিচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগমতে, নিজের পছন্দের এবং শুধু অধিদফতরের কর্মকর্তাদেরই বারবার নিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধি মনোনয়ন দেন তিনি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিল্লাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় আমার বিরুদ্ধে তো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।’








