বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রোপচার শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর শেষ হয়। হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাজমুল করিম মানিক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘অপারেশনের পর তিনি এখন সুস্থ আছেন। তার অবস্থা স্থিতিশীল।’
ডা. নাজমুল করিম মানিক আরও বলেন, ‘ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর চিকিৎসার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আজ তার একটি ছোট্ট অপারেশন হয়েছে। তার পায়ের যে জয়েন্ট ভেঙে গিয়েছিল সেটি জোড়া দেওয়া হয়েছে। অপারেশন শেষে তাকে পোস্ট অপারেটিভে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।’
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ছেলে তূর্য কাজী জানান, গত ৮ নভেম্বর বাসার বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন তার মা। তখন তার পায়ের একটি হাড় ভেঙে যায়। আজ রবিবার অস্ত্রোপচার করে সে হাড়টি জোড়া লাগানো হয়েছে।
তূর্য কাজী বলেন, ‘এটা ছোট্ট একটা অপারেশন। ভয়ের কিছু ছিল না। তবে মার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ডাক্তাররা এটি করতে ভয় পাচ্ছিলেন। পরে বোর্ড বসিয়ে ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নেন যে, এই অপারেশনটি না করা হলে মা আর হাঁটতে পারবেন না। মাকে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর তিনি আর রিকোভারি করতে পারবেন কিনা তা নিয়েই ডাক্তারদের মনে ভয় ছিল। তবে মা সবকিছু ঠিক মতো সামলেছেন।’
এই বীর মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে দেখে গিয়েছেন। রবিবার সকালেও তিনি দেখা করে গেছেন বলে জানিয়েছেন ডা. নাজমুল করিম মানিক। তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ নভেম্বর বাড়ির বাথরুমে পড়ে আঘাত পান ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। সেসময় তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে নেওয়া হয়। পরে গত ২৩ নভেম্বর হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের অধীনে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হন প্রিয়ভাষিণী। তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও লিভার, কিডনি, ইউরিন ও থাইরয়েডের নানা সমস্যা ও জটিল বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এ ছাড়া তার বাম পায়ের গোড়ালিতেও সমস্যা রয়েছে।








