কৃষি গবেষণার জন্য রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত ল্যাবরেটরি ভবনসহ খামাড়বাড়ি ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা ঐতিহ্যবহনকারী সব ভবন ভাঙার ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত জারি করা রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) এক আবেদনের শুনানি নিয়ে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আবেদনের ওপর শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান।
এর আগে গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে কৃষি গবেষণার জন্য রাজধানীর ফার্মগেটের খামার বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত ল্যাবরেটরি ভবনসহ খামাড়বাড়ি ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা ঐতিহ্যবহনকারী সব ভবন ভাঙার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এছাড়া, ল্যাবরেটরি ভবনটি ভাঙা বা ধ্বংস করা কেন আইনি কর্তৃত্বের বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, ভাঙা ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ঐতিহ্যবহনকারী ভবনের তালিকা প্রণয়ন করে তা সংরক্ষণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।
কৃষি, সংস্কৃতি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও তেজগাঁও থানার ওসিকে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে তড়িঘড়ি করে কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভেঙে ফেলে।
এ বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর করা হলে আদালত গণপূর্ত সচিবসহ ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে তলব করেন।
পরে তাদের ব্যাখ্যা নিয়ে গত ৭ নভেম্বর আদালতের আদেশ অমান্য করে তড়িঘড়ি করে ফার্মগেটের খামারবাড়ির ল্যাবরেটরি ভবন ভাঙার কারণে গণপূর্ত সচিব ও একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে সতর্ক করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আদালতের যেকোনও লিখিত বা মৌখিক আদেশ পালনে তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে নির্দেশ দেন।
এদিকে, ভবন ভাঙার ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিতের নির্দেশ দেন।








