নিখোঁজের ৪৪ দিন পর ফিরে আসা মুবাশ্বার হাসান সিজারকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবে তার পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সিজারের বাবা মোতাহার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ বনশ্রীতে তার বাসার নিচে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ও শারীরিকভাবে দুর্বল। আগামীকাল (শনিবার) তাকে ডাক্তার দেখাবো।’
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড স্যোসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুবাশ্বার হাসান সিজারকে বিমানবন্দর সড়কে ছেড়ে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরেন তিনি। শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে অপহরণ,আটক থাকা ও ফিরে আসার তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন মুবাশ্বার।
শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মুবাশ্বারের বোন তামান্না তাসমিন বলেন, ‘ভাইয়া অনেক টায়ার্ড। সে এখন ঘুমাচ্ছে। তার বিশ্রাম প্রয়োজন। আমরাও তার সঙ্গে তেমন কোনও কথা বলার সুযোগ পাইনি। সে ফিরে এসেছে আমাদের পরিবার এতেই খুশি। কারও বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই, আমাদের কোনও প্রশ্ন নেই।’
মুবাশ্বার নিখোঁজ হওয়ার পর খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা মোতাহার হোসেন। নিখোঁজের ৪৪ দিন পর ফিরে আসলে সকালে মুবাশ্বারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাসায় আসেন পুলিশের সদস্যরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ওনার সঙ্গে বেশি কথা বলতে পারিনি। উনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। ফলে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি কিছুটা সুস্থ হলে আবারও তার সঙ্গে কথা বলবো।’
এর আগে শুক্রবার খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উনি নিজে নিজে কাল রাতে ফেরত এসেছেন, আমরা শুনেছি। তার স্বজনদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তার সঙ্গে আমরা পরে কথা বলবো।’
গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন মুবাশ্বার। অপহরণের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুবাশ্বার শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি আগারগাঁওয়ের ইউএনডিপি ভবন থেকে বের হয়ে উবার নিয়ে রোকেয়া সরণির দিকে যাওয়ার সময় মোবাইলে ব্রাউজ করছিলাম। তখন কয়েকজন গাড়িটা থামায় এবং বলে- ‘এটা চোরাই গাড়ি, নামেন।’ নেমে আমি পেছনে অন্য কোনও গাড়ি খুঁজছিলাম। তখন পেছন থেকে কেউ একজন আমার চোখে কিছু একটা মেখে দেয়। তারপর ধাক্কা দিয়ে একটা গাড়িতে তোলে। এরপর একটা কাপড় আমার মুখে ধরে। তখন আমি সেন্স হারাই।’’
এর পরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারপর অনেকক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি একটা রুমে বন্দি। পেছনে হাত বাঁধা। ময়লা একটা তোষক। ঘরের জানালা আছে কিন্তু বাইরে থেকে সিল করা। পাশে আরেকটা রুম আছে। চার-পাঁচ জন কথা বলতো, শুনতে পেতাম। ওখানেই ছিলাম। মনে হয় হোটেল থেকে এনে ঠাণ্ডা খাবার দিতো খাওয়ার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ অনেকদিন পর দিনের আলো দেখলাম।’
ফিরে আসা প্রসঙ্গে মুবাশ্বার বলেন, ‘‘তারা আমাকে একটা গাড়ির মধ্যে বসায়। এক থেকে দেড়ঘণ্টা গাড়িটা চলে। চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। পুরোসময়টা আমাকে একজনের কোলে শুইয়ে রেখেছিল তারা। তারপর একসময় নামিয়ে দিয়ে বলে, ‘তুই চলে যা। পেছনে তাকালে মেরে ফেলবো।’ নেমে দেখি- এয়ারপোর্ট রোড। ওখান থেকে একটা সিএনজি নিয়ে বাসায় আসি। আমার কাছে কোনও টাকা ছিল না। সিএনজিচালকের ফোন থেকে বাবাকে ফোন দিয়েছিলাম। বাবা গেট খুলে ৫০০ টাকা নিয়ে এসে সিএনজিওয়ালাকে দেয়।’
আরও পড়ুন: উৎপলের পর মুবাশ্বারও বললেন টাকার জন্য অপহরণ








