'প্রধানমন্ত্রী দেখবেন আমাদের'

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:১৩আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:১৩

'প্রধানমন্ত্রী দেখবেন আমাদের' কেউ না দেখলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দেখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত নন এমপিও শিক্ষকরা। রবিবার সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা অনশন শুরু করেন। এসময় বাংলাট্রিবিউনের এ প্রতিবেদকের কাছে এমন আশা প্রকাশ করেন কয়েকজন শিক্ষক। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে একই জায়গায় শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার হাজী বিশারদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৩ সাল থেকে একই স্কুলে শিক্ষকতা করছি। গ্রামের স্কুলে ছেলে মেয়েরা স্বল্প মূল্য বেতন কিংবা বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পায়। কিন্তু তাতে তো একজন শিক্ষকের কোনও বেতন হয়না। তবুও বছরের পর বছর পাঠদান করে যাচ্ছি। ছেলেমেয়েরা অন্তত শিক্ষা বঞ্চিত না হোক এই লক্ষ্যেই এ কাজ করি। কিন্তু বিনা বেতনে আর কতদিন শিক্ষকতা করতে পারবো সেটাও অজানা। অভাবের সংসারে আছে দুই ছেলে মেয়ে। তাদেরও এই করুণ অবস্থায় পড়ালেখা বন্ধ রাখিনি।’

'প্রধানমন্ত্রী দেখবেন আমাদের' তিনি আও বলেন, ‘আমার স্ত্রীও একজন শিক্ষিকা। তার উপার্জনে কোনও রকম সংসার চলে। ধারকর্য করায় এখন আত্মীয়ের বোঝা হয়ে গেছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য কিছু একটা করবেন।’

এমপিওভুক্তির দাবিতে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। এ দাবিতে আমরণ অনশন,অবস্থান ধর্মঘট,শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিভিন্ন সময়ে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। তারপরও (২০১৬-১৭) এবং (২০১৭-১৮) অর্থবছরের বাজেটে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি অথবা বাড়তি ভাতার ব্যবস্থা করতে কোনও বরাদ্দই রাখেননি অর্থমন্ত্রী। তাই আবার রাজপথে নেমেছেন শিক্ষক কর্মচারীরা। সাত হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এই অবস্থান কর্মসূচি ও অনশনে যোগ দিয়েছেন।  কেউ কেউ  প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন, ‘বেতন দেন, না হয় গুলি করেন’, ‘এমপিও না হলে বাড়ি ফিরে যাবো না’। এরকম নানা লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড কেউ হাতে নিয়ে কেউবা গলায় ঝুলিয়ে বসে আছেন দিনরাত।

'প্রধানমন্ত্রী দেখবেন আমাদের' খুলনার তেরখাদা সোনারতরী নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিতক্ষিকা সাগরিকা মজুমদার বলেন, ‘দীর্ঘ ১৪বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। স্কুলের প্রতি এক প্রকার মায়া জন্মে গেছে বলেই এর সঙ্গে এতদিন থাকা। এতদিন ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছি। আশা ছিল সরকার আমাদেরকে দেখবে। আশায় আশায় পর হয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। এরকম আশায় আমাদের না রাখলেও পারতো সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী সন্তানকে ঘরে রেখে ঢাকায় এসে আন্দোলন করছি। আশা একটাই , কেউ না দেখলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেখবেন। কারণ তিনি শিক্ষাবান্ধব। শিক্ষামন্ত্রী শুধু আশা দিয়ে আসছেন। কিন্তু কিছুই করছেন না। এই আশায় থেকে আমরা এখন সমাজের বোঝা। অন্য কোথাও যে চাকরি করবো তারও কোন বয়স নেই। সংসার চালাতে প্রতিবছর একটা করে গরু বিক্রি করতে হয়। মাঝে মধ্যে মনে হয় আত্মহত্যা করি।’

'প্রধানমন্ত্রী দেখবেন আমাদের'

বগুড়ার শিবগঞ্জের রায়নগর আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নুরুন্নাহার বলেন, ‘শুরু থেকেই আন্দোলনে আছি। টাকা ধার করে ঢাকায় এসেছি। আশায় এবার যদি কেউ আমাদের কথা শুনে। কিন্তু এবারও আশাহত হয়ে পড়ছি আমরা। শিক্ষামন্ত্রীর আশাবাদ এখন আমাদের কাছে অভিশাপ মনে হয়। এলাকার লোকজন এখন ব্যঙ্গ করে বলে, হাজী সাহেবের মেয়ে বিনা বেতনে চাকরি করে।’

আরও পড়ুন:
অনশনে নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

/এসও/এসএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম