কুতুববাগ দরবার শরীফের এ বছরের ওরস শরীফ ও বিশ্বজাকের ইজতেমার আয়োজন নারায়ণগঞ্জের কুতুববাগ দরবার শরীফে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে অনুমোদন না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর ওরস আয়োজনের সময় দরবার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে ডিএনসিসিকে জানিয়েছিল এ বছর থেকে তারা ওই পার্কে আর ওরস করবে না। তারপরও সেখানে এ বছর ওরসের উদ্যোগ নিলে কঠোর অবস্থান নেয় ডিএনসিসি। এরপরই তা নারায়ণগঞ্জে করার সিদ্ধান্ত নেয় দরবার কর্তৃপক্ষ। দরবার শরীফের পক্ষে অ্যাডভোকেট মির্জা মাহবুব বাচ্চু বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, গত বছর ডিএনসিসির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক এই দরবারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়ে দেন ঢাকার মধ্যে আর কোনও ওরস করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু মেয়রের মৃত্যুর পর এ বছরও ফার্মগেটের ওই পার্কে ওরসের আয়োজন করে কুতুববাগ দরবার শরীফ। পরে গত ১৭ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওরসের তোরণ ভেঙে দিয়ে আবারও জানিয়ে দেয় ঢাকায় এ ধরনের কোনও অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না।
সিটি করপোরেশনের এমন সিদ্ধান্তের পর সোমবার (৮ জানুয়ারি) কুতুববাগ দরবার শরীফের পক্ষে অ্যাডভোকেট মির্জা মাহবুব বাচ্চু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ফার্মগেটে ওরস করার জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমতি পাওয়া যায়নি। এজন্য ওরস শরীফ ও বিশ্বজাকের ইজতেমা আগামী ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের কুতুববাগ দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
২৫ বছর ধরে ফার্মগেটের ওই পার্কে বার্ষিক ওরসের আয়োজন করে আসছে কুতুববাগ দরবার শরীফ। এতে ওই এলাকায় যানজটসহ জনসাধারণের ভোগান্তি দেখা দেয়। নষ্ট হয় পার্কটির পরিবেশ। কুতুববাগ দরবার শরীফের এই আয়োজনকে ঘিরে মাসব্যাপী চলে নানা কর্মযজ্ঞ। ওরসের জন্য সাজানো মঞ্চ, আলোকসজ্জা ও দান হিসেবে আসা পশু রাস্তায় রাখার কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতবছর এই আয়োজনে হস্তক্ষেপ করেছিলেন ডিএনসিসির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক।
ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অজিয়র রহমান এ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘গত বছর তারা (কুতুববাগ দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ) মেয়র আনিসুল হকের কাছে লিখিত কমিটমেন্ট করেছে এ বছর তাদের ওরস ঢাকার বাইরে নিয়ে যাবে। সে কারণে তাদের গতবছর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই কমিটমেন্ট মানতে চায়নি। তাদের কোনও অনুমতিও দিইনি। এজন্য কিছুদিন আগে তাদের সাজানো তোরণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ বছর থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে সেখানে ওরসের জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হবে না।’








