গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথিতযশা লেখক শওকত আলীকে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। লেখকের ছেলে আসিফ শওকত কল্লোল বুধবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাবার অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাকে বিএসএমএমইউ-এর অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের প্রধান ডাক্তার ইকবালের অধীনে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়নি। তার প্রেসার ক্রমাগত নেমে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। এখানে তাকে নিবির পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, রক্তে সংক্রমণজনিত কারণে শওকত আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৪ জানুয়ারি দুপুর দেড়টায় তাকে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত আলী এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের রায়গঞ্জে তার জন্ম। পারিবারিকভাবেই বেড়ে উঠেছেন রাজনীতি-সচেতন ও সংস্কৃতিমনা পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংস্পর্শে এসেছেন বইয়ের।
শওকত আলীর লেখা পাঠকনন্দিত উপন্যাসের তালিকায় রয়েছে ‘যাত্রা’, ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’, ‘দক্ষিণায়নের দিন’, ‘উত্তরের খেপ’ প্রভৃতি। এর মধ্যে ‘উত্তরের খেপ’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
সাহিত্য চর্চার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৬ সালে ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার পান শওকত আলী। ১৯৫৮ সালে এম.এ. পাস করে দিনাজপুরের একটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৫৯ সালের শেষের দিকে ঠাকুরগাঁও কলেজে বাংলার শিক্ষক হন গুণী মানুষটি।
১৯৬২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ কলেজে লেকচারার হিসেবে চাকরি করেন শওকত আলী। ১৯৮৮ সালে জেলা গেজেটিয়ারের ঢাকার হেড অফিসে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৯ সালে সরকারি সঙ্গীত কলেজের প্রিন্সিপাল করা হয় তাকে। এখান থেকে ১৯৯৩ সালে অবসরে যান তিনি।








