চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা ফৌজদারি মামলার এক আসামিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দু’জন উপ-পরিদর্শকসহ মোট চার জনের বিষয়ে আগামীকাল সোমবার (২৯ জানুয়ারি) আদেশের দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (২৮ জানুয়ারি) উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে তলবকৃতদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফারজানা শারমিন ও আইনজীবী মোকবুল আহমেদ।
জানা যায়, গত বছরের ১৩ অক্টোবর অন্য একটি মামলায় বেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ১৪ অক্টোবর তাকে গাঁজাসহ আটকের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আট মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।
এরপর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বেলাল উদ্দিনকে দেওয়া আট মাসের সাজা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। এছাড়াও ওই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেন ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা ফৌজদারি মামলার আসামি বেলাল উদ্দিনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দু’জন উপ-পরিদর্শকসহ মোট চার জনকে আজ রবিবার আদালতে তলব করা হয়।
এছাড়াও চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ অক্টোবর দুই পুড়িয়া গাঁজাসহ আটকের অভিযোগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া আধুনগরের বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেনকে ৮ মাসের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ একটি রিট আবেদন করেন।
এ ব্যাপারে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘অন্য একটি মামলায় গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে বেলালকে গ্রেফতার করে পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু গত ১৪ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক আদেশে দেখানো হয়, বেলা ১২টা ১০ মিনিটে বেলালকে তার গ্রামের বাড়ির সামনে থেকে দুই পুড়িয়া গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা হয়। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ তালিকায় তারিখ বলা হয় ১৩ অক্টোবর রাত ৯টা ৫ মিনিটের কথা। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট স্থাপন করে বাদীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। যা সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী বলেও তিনি জানান।








