রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনসহ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের ৩২৭টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তিনদিনের এ কর্মবিরতির প্রথম দিন রবিবার সকাল ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
এর আগে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনসহ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার দাবিতে তিনদিনের কর্মবিরতি কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএস)। কর্মসূচি পালনকালে পানি সরবরাহ ছাড়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ রাখা হয়। তাছাড়া রাতেও সড়ক বাতি বন্ধ থাকবে বলে জানায় সংগঠনটির নেতারা।
ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট পৌরসভায় কর্মবিরতি পালনকালে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল আলিম মোল্লা বলেন, ‘বিগত কয়েকবছর ধরে আমাদের সংগঠন বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রাপ্তির দাবি জানিয়ে আসছি। এজন্য আমরা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, স্বারকলিপি প্রদান, বিভাগীয় সমাবেশ, মহাসমাবেশ, সাংবাদিক সম্মেলনসহ নানান কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের কোনও দাবি মানা হচ্ছে না। এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
তিনি জানান, সারা দেশের ৩২৭টি পৌরসভার বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংবিধানের ৫৯ (২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক সরকারি কর্মচারী হওয়ার পরও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা না পেয়ে বৈষম্যের শিকার হন। দেশের ২২৬টি পৌরসভায় ৫৮ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ১৫ তারিখ সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে দু’দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতির কর্মসূচি ছিলো সংগঠনটির। কিন্তু প্রথম দিন দুপুরের পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আশ্বাস পেয়ে তা প্রত্যাহার করা হয়। বলা হয়, যদি ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হয় তাহলে ২৮ জানুয়ারি থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য সব পৌরসভায় একযোগে সেবা বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন পালন করা হবে।








