মাঠ পর্যায়ে নারীদের মাসিক নিয়মিতকরণ সেবায় কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারলে এর মাধ্যমে নারীরা অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সময়মতো এই সেবা পেতে পারেন। ফলে এ ধরনের রেফারেল নেটওয়ার্ক নারীদের স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। এ ধরনের নেটওয়ার্ক প্রবর্তনে রিচআউটের প্রজেক্ট ও গবেষণার ফলাফল বড় ভূমিকা রাখবে।
রবিবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিরাপদ নারী স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আলোচকদের প্যানেল এসব কথা বলেন। ‘রিচআউট- রিচিং আউট অ্যান্ড লিংকিং ইন: হেলথ সিস্টেমস অ্যান্ড ক্লোজ-টু-কমিউনিটি সার্ভিসেস’ প্রজেক্টের শেষ হওয়া উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ করা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএইচ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ-এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে ২০১৩ সালে এই প্রজেক্টের কার্যক্রম শুরু করে ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ। বাংলাদেশে এই সেবার অংশীদার মেরি স্টোপস বাংলাদেশ এবং আরএইচ স্টেপ। এর মূল লক্ষ্য ছিল— মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উৎসাহের মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর রেফারাল নেটওয়ার্ক তৈরি, যার মাধ্যমে নারীরা নিরাপদ মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, রিচআউটের গবেষণা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতকে সহায়তা করবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ ধরণের গবেষণার আরও বেশি প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, কমিউনিটির নারীরা সঠিক সময়ে সরকারি অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নিরাপদ মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা নিলে তাদের স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।
অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, মাঠ পর্যায়ে মাসিক নিয়মিতকরণ সেবায় কার্যকর ও মানসম্মত রেফারেল নেটওয়ার্ক তৈরি সম্ভব। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নারীরা সরকারি অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সময়মতো নিরাপদ মাসিক নিয়মতকরণ সেবা পেতে পারেন।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ-এর ডিন অধ্যাপক সাবিনা ফাইজ রশিদ। পরে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন লাইন ডিরেক্টর এমসিআরএএইচ ড. মোহাম্মদ শরিফ, পাথ ফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. হালিদা হানুম আখতার, কুমুদিনি উইমেন মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মো. আব্দুল হালিম ও মেরি স্টোপস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম সাপোর্ট ডিরেক্টর ড. মোবারেক হোসেন খান।
২৪টিরও বেশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।








