বুধবার (৩১ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হলো ‘জাতীয় পথনাট্যোৎসব ২০১৮’। ‘প্রগতির যাত্রা পথে মশাল জ্বালাও, ভাষা-কৃষ্টির শক্তি নিয়ে বিশ্ব কাঁপাও’ স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসবের উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী। শহীদ মিনার চত্বরে বেলুন উড়িয়ে ও ছবি এঁকে উদ্বোধন হয় আট দিনব্যাপী এই উৎসবের।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হবে এই নাট্যোৎসব। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ উৎসব৷
উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণার আগে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি৷ এসময় ভাষা শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় উদ্বোধনী দিনের কার্যক্রম। এরপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় ও সোম গিরির নির্দেশনায় নৃত্যনাট্য ‘উড়ন্ত পাখি’ পরিবেশিত হয়। সবশেষে ড. মোহাম্মদ বারীর নির্দেশনায় ও থিয়েটার আর্ট ইউনিটের নাটক 'জনম দুখী মা' পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। আট দিনের এই নাট্যোৎসবে মোট ৩৫টি সংগঠন নাটক পরিবেশন করবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকির সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন– নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন মান্নান হীরা, নাট্যজন রোকেয়া রফিক বেবী প্রমুখ।
বরেণ্য চিত্রশিল্পী সমরজিৎ রায় বলেন, ‘নাটক আমার অনেক পছন্দের বিষয়। এই উৎসবে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিতবোধ করছি। নাটকের মধ্যদিয়ে আমাদের দেশের অনেক আশা-আকাঙ্খা প্রতিফলিত হয়।’
এসময় রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমাদের দেশে বিকৃত বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে। এই অবস্থায় ভাষার মাসের শুরুতে নাটকের মাধ্যমে প্রমিত বাংলা ভাষার চর্চা বাড়ানো এবং এই পথ-নাটকের মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। একসময় বাংলাদেশে অনেক পথ-নাটক হতো। কিন্তু বর্তমানে তা কমে গেছে। আশা করি, পথ-নাটক শুধু উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই নাটকের প্রসার ঘটবে দেশজুড়ে।’








