মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক ও কর্মচারীরা। নিয়োগপত্রের দাবিতে দীর্ঘদিন প্রতিবাদ করেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিলেন তারা। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন গ্রামীণফোন লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতারা। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি মেনে না নিলে রাজপথে আন্দোলনে নামবেন তারা।
গ্রামীণফোন লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি লোকমান হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ চার বছর ধরে আমাদের বেতন বাড়েনি। বেতন বাড়ানোর দাবি জানালেও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হলে কাজ বাদ দিয়ে রাজপথে নেমে আন্দোলন করবো।’
ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কাইয়ুম শেখের ভাষ্য, ‘আমাদের আন্দোলন বন্ধ করার জন্য গ্রামীণফোন থেকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অনেককেই জেল খাটতে হয়েছে। আমাদের গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চাকরির বাইরে রাখা হয়েছে।’
বক্তাদের দাবি, ‘আমরা চাকরি পাওয়ার জন্য গ্রামীণফোনের সব শর্ত পূরণ করি। এরপর আমরা নিয়োগ পেয়েছি। কিন্তু কোনও নিয়োগপত্র না দিয়ে শুধু একটি জিপি আইডি নম্বর প্রদান করা হয়। বারবার নিয়োগপত্র চেয়েছি, কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু— এসব বলে আমাদের সঙ্গে শুধু প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।’
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ‘দমিয়ে দেওয়ার জন্য ২০০৮ সালে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে গ্রামীণফোন। বাধ্য হয়ে আমরাও ২০০৮ সালের ২২ জুন শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করি। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক বিবেচনা করে দীর্ঘ তিন বছর পর শ্রম আদালত শ্রমিকদের পক্ষে রায় দেয়। সেই রায়কে উপেক্ষা করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করে গ্রামীণফোন। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল আবারও দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক বিবেচনা করে শ্রমিকদের পক্ষে রায় দেয়। শ্রমিকদের হয়রানি করার জন্য গ্রামীণফোন আবারও দুই রায়কে অমান্য করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। এই মামলা এখনও হাইকোর্টে চলমান অবস্থায় রয়েছে। আশা করছি, এখানেও আমরা জিতবো।’








