নেত্রীর পায়ের ধুলো না নিয়ে উপাচার্য নিয়োগ পাওয়া উচিত: ড. কামাল

ঢাবি প্রতিনিধি
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫৫আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:০২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ড. কামাল হোসেন
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার  ক্ষেত্রে নেতা-নেত্রীর পায়ের ধূলো না নিয়ে উপাচার্য নিয়োগ হওয়া উচিত বলে-মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা  ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ৷

বুধবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: নতুন যুগের সন্ধানে' শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন ৷

ড.কামাল হোসেন বলেন, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ পাবে, যোগ্যতার ভিত্তিতে উপাচার্য হবে ৷ দলীয় আনুগত্য, নেতা-নেত্রীর পায়ের ধুলো না নিয়ে যেন নিয়োগ পাওয়া যায় এমন প্রথা হওয়া উচিত ৷ কিন্তু এই জঘন্য জিনিসগুলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কৃতিতে ঢুকে গেছে ৷

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে এটা হওয়া উচিত যে কোনও দলীয় আনুগত্য থাকবে না ৷ কারও পায়ের ধুলো নেওয়ার পূর্বশর্ত থাকবে না ৷ এটাই নিয়মিত হয়ে যাওয়া উচিত ৷ আজকে পায়ে ধরার নিয়ম নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে ৷ বিশেষ করে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পায় অযোগ্যরা ৷

শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা যা আশা করে, তা তারা পাচ্ছে কী না  তাও একটি কমিশন গঠন করে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, অন্যকে দেখিয়েছিলাম ৷ এই স্বাধীনতার জন্য অনেক লোককে জীবন দিতে হয়েছে ৷ কিন্তু, আজকে দেশের যে অবস্থা তা দেখে কষ্ট পাই ৷ এগুলো দেখিয়ে আমাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে ৷ কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য আমি সাধারণত দিতে চাই না ৷ কিন্তু, প্রশ্নের মাধ্যমে চলে আসে ৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে ৷ অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুনাম ছিলো,  কিন্তু, এখন এটির মান কমে গেছে ৷ এ বিষয়ে সবার এগিয়ে আসা উচিত ৷ ’

এ সময় ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান প্রমুখ ৷

অনুষ্ঠানে ড. রওনক জাহান বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও মানটা কমে যাচ্ছে। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, শিক্ষক নিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছু নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে মেনে চলা হয়। সেখানে প্রফেসর বা ডিন হওয়ার জন্য কেউ  আগ্রহ দেখাতে চায় না এই  ভেবে যে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ভারে গবেষণা করার সময় পাবে না। আর আমাদের দেশে শিক্ষকরা ক্ষমতার লোভে প্রশাসনিক ক্ষমতা পেয়ে আইন ভঙ্গ করে  অন্যায় কাজ করে।  এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষকদের নিজেদের স্বার্থে ছাত্র বা ছাত্রনেতাদের ব্যবহার করা ঠিক নয়।’

/এসআইআর/টিএন/
সম্পর্কিত
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ব্যাংক ও এমএফএসের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ 
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন নিলে শাস্তির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠান
যে কারণে বেসরকারি স্কুল-কলেজে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দিচ্ছে সরকার
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম