জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার। রায় শুনতে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যাবেন। তবে এসময় তার সঙ্গে নেতাকর্মীদের বহর থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির একদল নেতা। তাদের ভাষ্য, কঠোর নিরাপত্তা বেস্টনির মধ্যেই খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হবেন। এদিকে দলটির অন্য একদল নেতা জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের মতোই তাদের নেত্রী আদালতে যাবেন এবং মিছিল নিয়ে যথারীতি তার সঙ্গে নেতাকর্মীরাও থাকবেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতের উদ্দেশে বের হবেন খালেদা জিয়া। এদিন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
বিএনপির বেশ ক’জন নেতা জানান, খালেদা জিয়ার বৃহস্পতিবারের আদালতযাত্রা অন্যান্য সময়ের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। বুধবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আসা সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা হয় খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া নিয়ে। তাদের প্রায় প্রত্যেকেই জানান, কাল ব্যতিক্রম কিছু হবে না। অন্যান্য দিনের মতোই খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন।
খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার শঙ্কা করছে তারা। সেজন্য প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহারিক জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার অন্দরে কাজ করা একজন নারীকর্মীও তার সঙ্গে থাকতে পারেন।’
জানা গেছে, বুধবার রাতে দ্রুত গুলশান কার্যালয় ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। রাত ৯টা ৫ মিনিটেই তিনি নিজ বাসভবনে প্রবেশ করেন।
কার্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ বরাবর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ যাত্রায় তারা খালেদা জিয়াকে ৩টি টিমের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে পারবেন।
বিএনপির একদল নেতা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বুধবার রাত থেকে যেভাবে তল্লাশি ও টহল দিচ্ছে, তাতে বৃহস্পতিবার সকালে খালেদা জিয়ার বহরে যোগ দিতে নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে, অনেকটাই পুলিশের নিরাপত্তা বেস্টনির মধ্যেই আদালত পর্যন্ত যাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
চেয়ারপারসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাডামের নিরাপত্তায় নিয়োজিতরা সিদ্ধান্ত দেবেন, তিনি কোন দিক দিয়ে আদালতে যাবেন।’
গুলশান কার্যালয় সূত্র বলছে, অন্যান্য দিন খালেদা জিয়া যে পথে যেতেন বৃহস্পতিবারও সে পথেই যাবেন। এক্ষেত্রে গুলশান ১, গুলশান ২, নাবিস্কো মোড়, মগবাজার হয়ে আদালতে যাবেন তিনি।
তবে বুধবার রাত ৮টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া কীভাবে আদালতে যাবেন, বিএনপি নেতারা কোথায় ও কীভাবে তার সঙ্গে যুক্ত হবেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।’
এদিকে, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘অন্যান্য দিনের মতোই তার (খালেদা জিয়া) আদালতযাত্রা শুরু হবে। নেতাকর্মীরা সঙ্গে থাকবে।’
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রায় শুনতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিশেষ আদালতে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সাধারণত গাড়িতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ। বৃহস্পতিবারও এই দুই জন খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে সুলতানা আহমেদ খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনেই এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে বাসা থেকে ম্যাডামকে নিয়ে যাবো।’
এর বাইরে আইনজীবীরা ছাড়াও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলেও জানা গেছে। একটি সূত্র মির্জা ফখরুলের গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
অন্যান্য সময় খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়া-আসার সময় মহানগর বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদল হোটেল শেরাটন থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত তার গাড়িবহরের সঙ্গে যুক্ত থাকেন মিছিল সহকারে।
এ ব্যাপারে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিছিলের প্রস্তুতি রয়েছে। বাকিটা কালকে (বৃহস্পতিবার) দেখা যাবে।’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার ১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। আত্মপক্ষ সমর্থনে গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন চলেছে ১৬ দিন। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৫ জানুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা জিয়াসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ।








