বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) লাইন ধরে টিকিট কাটার নিয়ম থাকলেও এরই আড়ালে চলে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় মেলে না টিকিট। এই সুযোগে দালাল চক্র ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি করে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে অনলাইনে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। শিগগিরই এ টিকিট সিস্টেম চালু হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাড্ডা থেকে আসা শতাব্দী সেতু বণিক তার মাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাবেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা পর টিকিট পান। শতাব্দী বলেন, ‘কোনও রোগ বা চিকিৎসকের জন্য এখানে আলাদা লাইন নেই। একটা লাইনে দাঁড়িয়েই সব রোগের জন্য টিকিট কাটতে হয়। এতে আমি যে কারণে টিকিট কাটব সেটা পাব কিনা এটা নিয়ে ভয় ছিল। তবুও পেয়েছি দেখে খুশি হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে একজন চিকিৎসক একদিনে দশ জন রোগী দেখেন। আমার ভাগ্য ভালো, দশ নম্বর টিকিটটা পেয়েছি।’
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে মাহবুবুর রহমানও মায়ের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের টিকিট কাটতে এসেছেন । তিনিও টানা দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর টিকিট পেয়েছেন।
রাজধানীর শনির আখড়া থেকে স্ত্রীকে বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক দেখাবেন বলে টিকিট কাটতে এসেছিলেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আজ এ নিয়ে দ্বিতীয় দিন লাইনে দাঁড়িয়েছি। আজ যেন টিকিট পাই।’ আগের দিন পাননি কেন জানতে চাইলে বলেন, ‘কাল লাইনে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর অফিসের প্রয়োজনে ফিরে গেছি। তাই আজ (বুধবার) আবার আসতে হলো।’
বিএসএমএমইউতে সকালের শিফটে বহির্বিভাগে রোগী দেখানোর জন্য টিকিট মূল্য ৩০ টাকা। আর বিকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর জন্য টিকিট মূল্য ২০০ টাকা।
বিএসএমএমইউয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আলী আসগর মোড়ল বলেন, ‘আমরা আমাদের কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসতে চাচ্ছি। আমরা তখন আর প্রিন্টেড পরামর্শপত্র দেবো না। পাশাপাশি আমরা টিকিট অনলাইনে পাওয়ার ব্যবস্থা করবো। এতে রোগীদের কষ্ট কমবে। এখন টিকিট কাটতে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তখন টিকিট অনলাইনে দিয়ে দেবো। ৩০ টাকার টিকিটও বাসায় বসে কাটতে পারবে। বিকালের টিকেটও বাসায় কাটা যাবে। অনলাইনে টিকিট কাটার পর সেটার মূল্য বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। টিকিট কাটার পর প্রিন্ট নিয়ে এসে চিকিৎসককে দেখাতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট কাটার সিস্টেম চালু হলেও ৩ ঘণ্টায় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কতজন রোগী দেখবেন তার আমরা একটা লিমিট করে দেবো। প্রথমদিনের টিকিট না পেলে রোগী নিজে থেকে পরের দিনের টিকিটের জন্য ট্রাই করতে পারবেন। এভাবে তিনি তার সুবিধাজনক দিনে নিজের টিকিট কোনও ধরনের ঝামেলা ছাড়াই কাটতে পারবেন।’
বিএসএমএমইউয়ের প্রক্টর ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা শুরু করব। এখন ৩০ টাকার টিকিট ব্ল্যাকে ১৫০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের টিকিট কখনও কখনও দেড় হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়। এগুলো বাইরের লোকেরা বেশি করে। বাইরের দালাল চক্র এরা। এদের কয়েকজনকে আমরা ধরে পুলিশে দিয়েছি। এরা নকল টিকিট পর্যন্ত বানায়। এই অবস্থা প্রতিরোধেই আমরা মূলত অনলাইনে যেতে চাইছি।’








