পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনটি এখন ‘সাবজেল’। সেখানেই রাখা হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর তাকে সেখানে রাখা হয়।
কারা কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের নির্দেশে খালেদা জিয়াকে পুরনো কারাগারের প্রশাসনিক ভবনে রাখা হয়েছে। তাই সেটিকে ‘সাবজেল’ বা ‘বিশেষ কারাগার’ যেটাই বলতে চান, তা বলা যাবে।
কারা অধিদফতরের দায়িত্বশীল দু’জন কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই পুরনো এই কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সব আসামি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে। এরপর থেকে এটিকে আর কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হয় না। প্রথমে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে নারী সেল এলাকায় ডে-কেয়ার সেন্টার নামে যে তিন তলা ভবনটি রয়েছে, খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে সিদ্ধান্ত বদলে তাকে রাখা হয় প্রশাসনিক ভবনে। সেটিকে সাবজেল হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে দু’জন ডেপুটি জেলারের তত্ত্বাবধানে এ সাবজেলটি পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) তৌহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন’তো একটি কাগজ। সেটি হাতে পেতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। কিন্তু সরকারের নির্দেশনাটাই হচ্ছে বড় কথা। সরকার যাকে যেখানে বন্দি হিসেবে রাখতে চান, পারবে। যে ভবন বা বাড়িতে রাখা হবে, সেটি কারা অধিদফতরের অধীনে ‘সাবজেল’ বা ‘বিশেষ কারাগার’ হিসেবে গণ্য হবে। সরকারের নির্দেশেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনকে সাবজেল ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে ডিভিশন-১ বন্দির সব সুযোগ-সুবিধাই দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, কারা আইনের ৩(১) ধারা অনুযায়ী যেকোনও স্থানকে কারাগার হিসেবে গণ্য করার জন্যে সরকারকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।








