মাথায় আঘাতজনিত কারণেই লক্ষ্মীপুরের সাংবাদিক শাহ মনির পলাশের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢামেক হাসপাতালে পলাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে চাচাতো ভাইদের মারধরে গুরুতর আহত হন পলাশ। ঢামেক হাসপাতালে পরদিন তার মৃত্যু হয়। কিন্তু তার ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু। পরে জানা যায়, পলাশকে ঢামেকে ভর্তির সময় তার স্বজন আহত হওয়ার কারণ হিসেবে দুর্ঘটনার কথা বলেছিলেন। হাসপাতালের নথিতে তা-ই লেখা হয়। এ ত্রুটি সংশোধনে গত তিন দিন লক্ষ্মীপুর-ঢাকা দৌঁড়ঝাপ করতে হয় নিহত সাংবাদিকের স্বজনদের। লাশের ময়নাতদন্তও করা যাচ্ছিল না। তথ্য জটিলতা মিটিয়ে আজ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘মাথায় আঘাতজনিত কারণেই তার (সাংবাদিক পলাশ) মৃত্যু হয়েছে। ভারী কোনও বস্তু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে।’
সাংবাদিক পলাশের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায় কিনা এমন প্রশ্নে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘না, সড়ক দুর্ঘটনা নয়; মাথায় আঘাতজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শাহাবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমান লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়ির পেছনে সুপারি বাগানের কাছে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে থেকে ওইদিন রাত ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরদিন (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৭টায় তিনি মারা যান।
সাংবাদিক পলাশ লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার নাছিমনগর ফকিরবাড়ি গ্রামের ছেলে। তার বাবা মনিরুল ইসলাম, মা মাকসুদা খাতুন। তিনি ছিলেন রূপবাণী পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি। এছাড়া, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্নাতক শ্রেণির পরীক্ষার্থী ছিলেন।
চাচাতো ভাইদের মারধরের কারণে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢামেক হাসপাতালের ১০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পলাশ।








