ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এহসান রফিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাত জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের পর আজ মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রক্টর অধ্যাপক ড.এ কে এম গোলাম রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. ওমর ফারুককে আজীবন বহিষ্কার (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক) করা হয়েছে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফারদিন আহমেদ (হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক), গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রুহুল আমিন বেপারী (হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক), সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সামিউল ইসলাম সামি (হল শাখা ছাত্রলীগের সদস্য), দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আহসান উল্লাহ (হল শাখা ছাত্রলীগের সদস্য), উর্দু বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মেহেদি হাসান হিমেলকে (হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক) দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আরিফুল ইসলামকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সবাইকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ সিন্ডিকেটের এক সভায় তাদের বহিষ্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, এহসান রফিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের নেত্রালয় চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হবে বলে তার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান।
এ বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা পাসপোর্ট পেয়েছি। আশা করি, তিন-চার দিনের মধ্যে ভারতের উদ্দেশে রওনা হবো।’ সুষ্ঠু বিচার পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তারা সুষ্ঠু বিচার করেছেন।’
গত ৬ ফেব্রুয়ারি নিজের ধার দেওয়া ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এহসান রফিককে বেদম মারধর করে। এতে মারাত্মক আহত হন তিনি। চিকিৎসক বলেছেন, এহসানের চোখের কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এরইমধ্যে এ ঘটনার অভিযুক্তদের ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।








