অন্যায়ের বিচার না হওয়ার ফলে হুমায়ূন আজাদ ও অভিজিৎ রায়সহ ১৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তমনা মানুষদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় বিচার না হওয়ায়, সরকার কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই ড. জাফর ইকবালের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। রবিবার (৪ মার্চ) বিকালে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সুলতানা কামাল বলেন, ‘হত্যা ও অন্যায়ের বিচার না হওয়ায় ড. জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টাকারী বলেছে, জাফর ইকবাল ইসলামবিরোধী তাই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা মানুষের মৌলিক অধিকারের পক্ষে, মুক্তমনা সেইসব মানুষরাই তাদের শত্রু। তারা মুক্তমনা মানুষদের হত্যা করে শেষ করে দিতে চায়। অন্যায়ের বিচার না হওয়ার ফলে হুমায়ূন আজাদ ও অভিজিৎসহ ১৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। কারা হত্যা করেছে তা আমরা আজ পর্যন্ত জানতে পারিনি। আমাদের দাবি আজ থেকে আর একটি হত্যাকাণ্ডও যেনও না ঘটে। রাষ্ট্র এর দায় এড়াতে পারে না। আমরা দুর্বৃত্তদের হাতে দেশ ছেড়ে দিতে পারি না। তাদের হাতে দেশ তুলে দেওয়া যাবে না।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘জাফর ইকবাল তরুণদের আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ, সারা দেশজুড়ে তার জনপ্রিয়তা। জাফর ইকবাল ধর্ম নিরপেক্ষ, মুক্তিযুদ্ধের চর্চা করে থাকেন। যারা রক্ষণশীল, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে তারাই জাফর ইকবালকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করেছে।’
মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন, ‘একটার পর একটা হামলা করা হচ্ছে। যদি প্রত্যেকটার বিচার করা হতো তাহলে এ অবস্থা হতো না। এই হামলার ঘটনা এমনি এমনি ঘটে না। পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। যাতে করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে তিনি কথা বলতে না পারেন। আগে যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর কারণ কী? সরকারের দায়িত্ব জাফর ইকবালের মতো মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া।’
সমাবেশে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘সরকার কোনও ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনা অহরহ ঘটে যাচ্ছে। হত্যকারীদের খুঁজে বের করা হয়নি। হত্যাকারীদের আমরা দাবি জানাচ্ছি হামলাকারীকে যেহেতু হাতেনাতে ধরা হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করছি এই ঘটনার পেছনের মূল হোতা যারা রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করুন। সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা যথেষ্ট নয়।’
বিক্ষোভ সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ড. ইমরান এইচ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, লেখক ও প্রকাশক রবিন আহসান, উন্নয়নকর্মী শাহীন আনাম, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আকরামুল হক, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ, খেলাঘরের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক আবু সায়িদ প্রমুখ।
এদিকে একই সময়ে শাহাবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আরেক অংশের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক আবেদ খান, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কামাল পাশা চৌধুরী, এইচ রহমান প্রমুখ।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন








