সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ দমন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশে-বিদেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে ‘অনুশীলন শান্তিদূত-৪’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সোমবার (১২ মার্চ) সকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন গওহর রিজভী।
জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে ‘অনুশীলন শান্তিদূত-৪’ শুরু হয়। এই অনুশীলনে অংশ নেন বাংলাদেশসহ ২১টি দেশের এক হাজার ১২৩ জন অংশগ্রহণকারী। দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ফিজি, ঘানা, গ্রেট ব্রিটেন, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কিরগিজস্তান, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, পেরু, ফিলিপাইন, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সিয়েরালিওন, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম। উন্নত প্রশিক্ষণ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে বলে আশা করা যায়।
‘অনুশীলন শান্তিদূত-৪’ তিনটি ভাগে পরিচালিত হয়েছে। ফিল্ড ট্রেনিং ইভেন্ট (এফটিই), স্টাফ ট্রেনিং ইভেন্ট (এসটিই) ও ক্রিটিক্যাল অ্যানাবেলার ক্যাপাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট (২সিই)। অনুশীলনের অন্যতম বিষয়বস্তু হিসেবে ইউএন মিশন এলাকায় গমন-পূর্ব প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক যোগাযোগ ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মূল বিষয়গুলোর ওপর ধারণা দেওয়া হয়েছে। অনুশীলন শান্তিদূত-৪ এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বন্ধন, নিরাপত্তা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়বে।
এই অনুশীলনটি ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড দ্বারা পরিচালিত মাল্টিন্যাশনাল পিস কিপিং ইভেন্ট (এমপিই)। যা প্রতিবছর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত হচ্ছে। বিপসটে ২০০২, ২০০৮ ও ২০১২ সালে একই ধরনের অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের কৌশলগত এবং কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করাই শান্তিদূত-৪ এর উদ্দেশ্য। এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অবলোকন করার জন্য ইউএন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনু্ষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক এবং আমেরিকার সামরিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক মাইকেল এল স্মিত বক্তব্য রাখেন।








