সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বুধবার (১৪ মার্চ) সকালে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ছাড়পত্র পান। এরপরই তিনি রওনা দেন শাবিপ্রবির উদ্দেশে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নভোএয়ারের একটি উড়োজাহাজে চড়েন জনপ্রিয় এই লেখক।
সিলেট যাওয়ার উদ্দেশে নভোএয়ারের একই ফ্লাইটে ছিলেন এটিএন নিউজের সাংবাদিক মুন্নী সাহা। উড়োজাহাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বললেন, ‘মুহম্মদ জাফর ইকবাল আগের মতোই গল্প করেছেন, হাসি-ঠাট্টায় মেতে ছিলেন। তিনি এও উল্লেখ করেছেন, এটি তার দ্বিতীয় জীবন। এই জীবনকে আরও বেশি কর্মময় করে তোলার পরিকল্পনা আছে বলে জানান আমাকে।’
উড়োজাহাজে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ড. ইয়াসমিন হক। হামলার পরপরই তিনি প্রথমে স্ত্রীকে ফোন দেন। কিন্তু মোবাইল সেট চার্জে থাকায় তিনি ধরতে পারেননি। এরপরই মেয়ে ইয়েশিমকে ফোন করে জাফর ইকবাল। বলেন, ‘আমার ওপর হামলা হয়েছে, গণমাধ্যম থেকে শোনার আগে আমিই খবরটা দিলাম। আমার প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে, যেকোনও সময় অচেতন হয়ে পড়তে পারি।’
মুন্নী সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে আরও বলেন, ‘মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দেখে বোঝার উপায় নেই এত বড় একটি হামলার ধকল গেছে তার ওপর। মুখে সেই চিরচেনা হাসি দেখলাম। গল্প বলাও অব্যাহত আছে।’
বুধবার দুপুর পৌনে ১টায় নভোএয়ারের উড়োজাহাজটি অবতরণ করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে বরণ করে নেন শাবিপ্রবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
গত ৩ মার্চ বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাবি ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল। ঘটনাস্থলেই শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে মারধরের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়।
আহত ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৩ মার্চ রাতেই তাকে নিয়ে আসা হয় সিএমএইচে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।








