৮ এপ্রিল থেকে মশার প্রজনন ক্ষেত্রের সন্ধানে বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। যদি কারও বাড়ির সীমানার ভেতরে এমন কিছু পাওয়া যায়, তবে সেই বাড়ি বা হোল্ডিংয়ের মালিককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হবে। এনিয়ে আইনজীবীরা বলছেন, ‘আমাদের আইনগুলো ব্রিটিশ আইন থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে সেসব আইনের অনেককিছুই এ সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে যায় না। আবার পরবর্তী সময়ে কিছু কিছু আইন না ভেবেই করা হয়েছে।’
অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন
১৯৮৪ সালের অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী রাজধানীর যে কোনও সেন্টারে বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা বা যে কোনও অনুষ্ঠান করতে হলে ঢাকা সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে অতিথি যদি একশ’ হয়, তাহলে সরকারকে কোনও ধরনের রাজস্ব দিতে হয় না। তবে এর বেশি হলেই জনপ্রতি ২৫ টাকা করে রাজস্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ম কেউ মানছে না। এমনকি অনুষ্ঠানের অনুমোদনও নেওয়া হয় না।
এ ব্যাপারে ঢাকা সিটি করপোরেশন (দক্ষিণ)-এর প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সর্দার তেমন কিছু জানেন না উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘এরকম আইন জেলা প্রশাসকের অফিসে থাকতে পারে। আমাদের আছে কিনা খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।’
খোলা জায়গায় গোসল করবেন না
রাস্তায় কিংবা কোনও প্রকাশ্য স্থানে কাপড় ধোয়া এবং গোসল করা যাবে না। কোনোভাবেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা যাবে না। উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই বছর পর্যন্ত সাজা দিতে পারেন।
প্রতিবেশীকে বিরক্ত করবেন না
ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরে কার্যকর রয়েছে মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ। এছাড়া সিটি করপোরেশনগুলোতে রয়েছে সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ। এই অধ্যাদেশগুলো অনুযায়ী, রাস্তাঘাটে কিংবা যত্রতত্র যা খুশি তা করা যাবে না। যেমন রাস্তার ওপর কিংবা লোকজন চলাচল করে এমন জায়গায় গাড়ি মেরামত করা যাবে না যাতে প্রতিবেশীদের সমস্যা হয় কিংবা তাদের গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হয়। ইচ্ছা করলেই অনুমোদন না নিয়ে প্রতিবেশীর বাসায় যখন তখন ঢুকে পড়তে পড়া যাবে না। আপনার পালিত কোনও পশু-পাখি রাস্তায় ছাড়া অবস্থায় রাখতে পারবেন না। প্রতিবেশীর বাসার দালানে কোনও পোস্টার বা বিজ্ঞাপন লাগানো যাবে না।
আবাসিক এলাকায় কয় নিয়ম?
ইমারত নির্মাণ আইনে বলা আছে— কোনও আবাসিক স্থানে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ক্লিনিক, ব্যাংক, ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ, দোকান, সেলুন, চিকিৎসকের চেম্বার, ঔষধালয়, সংবাদপত্র বিক্রয়কেন্দ্র, ফুলের দোকান, গ্রন্থাগার, নার্সারি স্কুল, লন্ড্রি ও দরজির দোকানের জন্য ভবন নির্মাণ করা যাবে। তবে এরকম দালান কেবল দু’টি রাস্তার সংযোগস্থলে নির্মাণ করা যাবে, যার মধ্যে একটি রাস্তা কমপক্ষে ছয় মিটার প্রশস্ত হতে হবে।
এদিকে শহর এলাকায় আবাসিক প্লট ও ভবন থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরাতে সময় বেঁধে দেয় সরকার। আবাসিক এলাকার অননুমোদিতভাবে স্থাপিত সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও সরাতে বলা হয়েছে। যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমোদন নিয়ে আবাসিক এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেসব স্থাপনা সরাতেও সংশ্লিষ্টদের সময় দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছিল।
পারস্পরিক সাংঘর্ষিক আইনের ক্ষেত্রে করণীয় কী, জানতে চাইলে আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাংঘার্ষিক আইনগুলোর কারণে এবং বিদ্যমান আইনের কম বাস্তবায়নের কারণে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আইনের রিভিউ জরুরি। আইন হলো কাণ্ডজ্ঞানের বিষয়। আইনের ধারণা আইনজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। মানুষকে জানতে হবে— তার জন্য কী কী আইন আছে এবং কোনও আইন পারস্পরিক সাংঘার্ষিক হওয়ার কারণে সে কোথায় কোথায় বেনিফিটটা নিতে পারবে।’
থুথু বা পানের পিক ফেলার নিয়ম জানেন?
বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৬০ (১) ধারায় ‘আবর্জনা বাক্স ও পিকদানি’ শিরোনামে উল্লেখ আছে— ‘প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের সুবিধাজনক স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক আবর্জনা ফেলার বাক্স ও পিকদানি থাকতে হবে এবং সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।’ ৬০ (২) ধারায় উল্লেখ আছে, ‘কোনও প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনার মধ্যে কেউ বাক্স ও পিকদানি ছাড়া ময়লা বা থুথু ফেলতে পারবেন না।’ ৬০ (৩) ধারায় উল্লেখ আছে, ‘এই বিধান লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
আইনজীবী আনজীম আল ইসলাম এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘থুথু ফেলার নিষেধাজ্ঞা বা পাবলিক পরিসরে সিগারেট খাওয়া নিয়ে আইন থাকলেও তার কোনও প্রয়োগ যখন নেই, তখন সেটি থাকা না থাকা সমান হয়ে যায় এবং এটা বিভ্রান্তি ছড়ায়। ’
এই আইন ও ধারাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আইনগুলো যেমন আছে, তার বাস্তবায়ন দেখতে পাওয়াটা জরুরি। আবার আইনগুলো যদি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে থাকে, তবে তার অস্তিত্ব থাকা উচিত না।’








