জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার অন্য আসামিদের ১০ বছরের সাজা দেওয়ায় মূল আসামি খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (২৫ মার্চ) দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এ মামলার রায়ে অন্য আমামিদের ১০ বছরের সাজা দেওয়া হলেও খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।
খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। আমরা (দুদক) মনে করি, খালেদা জিয়া মূল আসামি অথচ তার চেয়ে সহযোগীদের বেশি সাজা দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার এই সাজা অপর্যাপ্ত। এই সাজার এই অংশটুকু আমরা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি আবেদন এফিডেবিট সম্পন্ন করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আগামী বুধবার (২৮ মার্চ) এ আপিল আবেদনের শুনানি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপিল আবেদন আগামী মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) আদালতে মেনশন (উল্লেখ) করা হবে।’ একইসঙ্গে আপিলটি শুনানির জন্য বুধবারের কার্যতালিকায় রাখার আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
একই বিষয়ে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অভিযোগ, খালেদা জিয়ার মামলায় সরকার হস্তক্ষেপ করছে। এর জবাবে তিনি বলেন, “সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে দুদক থেকে এ আবেদন করেছে, এটা মোটেও ঠিক নয়। আপনারা জানেন, যখন আপিলে জামিনের শুনানি হয় তখন আমরা বলেছি, ‘এই সাজায় আমরা সন্তুষ্ট নই। এটা অপর্যাপ্ত সাজা।’ তখন আদালত আমাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন (হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকালে), আমরা কিছু করেছি (সাজার বিরুদ্ধে দুদকের আপিল) কিনা। তখন আমরা আদালতকে বলেছিলাম, ‘বিষয়টি দুদক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। দুদক পুরো জাজমেন্ট ঘাঁটাঘাঁটি করবে। পরে দুদক সিদ্ধান্ত নেবে।’ সেই আবেদনটি আজ (রবিবার) এফিডেভিট সম্পন্ন করেছি।’
বেশ কিছু যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছিলেন— বিষয়টি নজরে আনা হলে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আপিল আবেদনে বিচারিক আদালতের সেই গ্রাউন্ডগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছি। এই গ্রাউন্ডে অপর্যাপ্ত সাজা দেওয়া যায় না। আইন এটা অনুমোদন করে না।’
আপনারা আপিলে কী পরিমাণ সাজা প্রার্থনা করেছেন জানতে চাইলে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ সাজা চেয়ে আবেদন করিনি। তবে অপর্যাপ্ত সাজা হওয়ায় বিরুদ্ধে আবেদন করেছি। এটা যখন শুনানি হবে, তখন দেখা যাবে একটি আইনে যতগুলো সাজা থাকে আদালত চাইলে তার বেশি বা কম সাজাও দিতে পারেন। অথবা খালাস দিতে পারেন। এটা মামলার বিষয়বস্তু ও ঘটনার ওপর নির্ভর করবে। মূল আসামির পাঁচ বছর সাজা হয়েছে, সেখানে সহযোগী আসামিদের কীভাবে ১০ বছর সাজা হয়?’
বিএনপির আইনজীবীরা আপিল আবেদনটি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। এর জবাবে দুদকের এ আইনজীবী বলেন, ‘দুদক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপিল করেছে। এটা প্রত্যাহারের কোনও সুযোগ নেই। এখন আমাদের বক্তব্য হলো, এটা ধোপে টিকবে কিনা, তা আদালত দেখবেন।’








