দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। দুর্নীতিবাজরা কেউ যেন শান্তিতে অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে না পারে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে দুদক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইকবাল মাহমুদ এ হুঁশিয়ারি দেন।
‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি’— এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮ (২৬ মার্চ থেকে ০১ এপ্রিল)-এর দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বিতর্ক, রচনা, পোস্টার অংকন ও কার্টুন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, “কমিশনের একটি নিজস্ব ‘ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে সংক্ষুব্ধদের অভিযোগ অথবা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ছাড়াই এই ইউনিটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, সরকারি পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থায় দুর্নীতিবাজ হিসেবে জনশ্রুতি আছে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
এরই মধ্যে কয়েকটি গোয়েন্দা তথ্য আমলেও নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব কর্মতৎপরতার মাধ্যমে দেশে এমন অবস্থা সৃষ্টি করা হবে, যাতে কেউ শান্তিতে অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে না পারে। এমন পরিস্থিতি হবে, যাতে দুর্নীতিবাজরা মনে করতে বাধ্য হয় দুর্নীতি সুখের কোনও বিষয় নয়। দুর্নীতি যেই করুক তাদের শাস্তি পেতেই হবে।’
দুদক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শতভাগ শাস্তি নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘গত বছর কমিশনের মামলায় প্রায় ৭০ ভাগ সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। কমিশন আগামী দিনে এমনভাবে কাজ করতে চায়, যাতে প্রত্যেকটি দুর্নীতিবাজের সাজা হয়, অর্থাৎ শতভাগ মামলায় সাজা নিশ্চিত হয়। এটা করতে যা যা করণীয়, কমিশন তা করবে।
এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব ন্যায়সঙ্গত শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করা। শাসনব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলে মানুষ চাইলেও ভালো হতে পারে না। ন্যায়ানুগ পথে জীবন পরিচালনা করতে পারলে তাতে তৃপ্তি আছে। শুধু অর্থের পিছনে ছুটলে সাফল্য আসতে পারে, কিন্তু পরিতৃপ্তি আসবে না। সাফল্য যেকোনও সময় ম্লান হতে পারে, এটা ক্ষণস্থায়ীও। কিন্তু পরিতৃপ্তির ভঙ্গুরতা নেই, এটা অম্লান।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমের দুটি ধারা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “একটি হলো দুর্নীতিপরায়ণদের শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং অন্যটি হলো বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের নৈতিক এবং আত্মিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে ন্যায়-নীতির সমাজ বিনির্মাণ করা। ‘ন্যায়নীতির রাষ্ট্র চাই’— দুদকের এ জাতীয় কর্মসূচি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে।”
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘আমাদের প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে—আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আগামী প্রজন্মের দায়িত্ব হবে দেশকে সমৃদ্ধ করা।’ এক্ষেত্রে তারা যদি ভুল করে, তাহলে এর খেসারত তাদেরই দিতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) ড. মো. জাফর ইকবাল। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন অর্ণব দাশ, ফাতেমা ফারজান, ফাহমিদা রহমান নাদিয়া প্রমুখ। বিতর্ক, রচনা, পোস্টার অংকন ও কার্টুন প্রতিযোগিতায় দুটি ক্যাটাগরিতে ৩৮ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়।








