আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) থেকে সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অথচ সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে খোলা রয়েছে দুই কোচিং বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান—সাইফুর’স ও ইউসিসি কোচিং সেন্টার।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন রাজধানীর ফার্মগেট ও পান্থপথে গিয়ে দেখা যায়, সাইফুর’স-এর সব ধরনের ক্লাস চলছে। খোলা আছে অফিস। চলছে ভর্তি কার্যক্রমও। এরপর খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইফুর’স-এর যাত্রাবাড়ী, রায়সাহেববাজার, আদাবর, মিরপুর, উত্তরা, গুলশানসহ রাজধানীর প্রায় সবক’টি এবং সারাদেশের শাখাগুলো খোলা রাখা হয়েছে।
সাইফুর’স-এর শাখাগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তারা জানান, উচ্চপর্যায় থেকে খোলা রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষেও সরকারের আদেশ অমান্য করে কোচিং সেন্টার চালু রেখেছিল সাইফুর’স।
জানতে চাইলে সাইফুর’স-এর জেনারেল ম্যানেজার আনিসুল ইসলাম আনিস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তো কোনও কোচিং সেন্টার নই। আমরা প্রাইভেট কোম্পানি। আমাদের লাইসেন্সসহ সব কাগজপত্রে সেটাই লেখা রয়েছে। তাছাড়া আমরা বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স করাই। আমরা কোনও একাডেমিক কোচিং করাই না। ফলে এটা কোনও কোচিং সেন্টার নয়।’
অন্যদিকে ফার্মগেটের গ্রিনরোডের ৮৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয়তলায় অবস্থিত ইউসিসি কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় প্রবেশপথে কোচিং সেন্টারটি বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অথচ ভর্তি কার্যক্রম চলছে নিচতলাতেই।
ভবনটির নিচতলার রিসিপশনে কোচিং সেন্টারের দুই কর্মকর্তা ভর্তি কার্যক্রম চালু রেখেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনও ক্লাস হচ্ছে না, শুধু ভর্তি কার্যক্রম চলছে।’
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি কেউ খোলা রাখে, এমন অভিযোগ পেলে আমরা পুলিশকে জানাবো, পুলিশই ব্যবস্থা নেবে।’ অভিভাবক ও সচেতন যেকোনও ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টার এলাকার থানা বা পুলিশ প্রশাসনকে নিজ উদ্যোগে অভিযোগ দিলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।








