ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বসন্ত উৎসব। এ উৎসব চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার ২৯ মার্চ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ উৎসব।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ বেলুন উড়িয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘বাঙালিদের ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। সারাবছর আমরা নানা উৎসবে মেতে থাকি। আমাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু উৎসবের পরিবর্তন হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ঋতুর উপর প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে ছয়টি ঋতু বোঝা যায় না। এখন বসন্তের স্থায়িত্ব কম, তারপরেও শীতের শেষে বসন্তের আগমণ মনে দোলা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বসন্ত হলো জীবনের প্রতীক। বসন্ত এলে মানুষের মধ্যে তারুণ্যের আমেজ থাকে। মনে বসন্ত, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আমাদের সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক।’
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দেশ-বিদেশের সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এ উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গ্রাম্য মেলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিকালে কনসার্টের মাধ্যমে বসন্ত উৎসব পালন করা হবে। বিকাল তিনটায় সাংস্কৃতিক পর্বের উদ্বোধন করেন তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এতে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় নাট্য ব্যক্তিত্ব অনন্ত হীরা, নূনা আফরোজ ও রাহুল আনন্দকে।
এছাড়াও সম্পূর্ণ উৎসবকে দু’টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বসন্ত উৎসব এর বিশেষ র্যা লি এবং দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক আয়োজন।
উৎসবের শেষভাগে থাকবে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘জলের গান’ ও ‘গানকবি’র বিশেষ সঙ্গীত পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বসন্ত উৎসবে আগত দর্শকদের জন্য উৎসব প্রাঙ্গণে গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে নাগরদোলা, পুতুল নাচ, বায়স্কোপ, বানর নাচ, মোরগ লড়াইসহ নানা ধরনের বাঙালি খাবার ও লোকজ হস্ত এবং মৃৎশিল্পের পসরা রয়েছে।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম








