বিকল্প শিল্পের ব্যবস্থা না করে সরকারকে বিড়ি শিল্প বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল। শনিবার (৭ এপ্রিল) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন ও গবেষণা উন্নয়ন কালেকটিভের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশে যেসব এলাকায় বিড়ি শিল্প আছে, সেসব এলাকায় বিকল্প শিল্প তৈরি না করে বিড়ি শিল্প বন্ধ করা যাবে না। কারণ, এ শিল্পের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যদি আগামীতে কথা না শোনেন তাহলে শ্রমিকেরা ঢাকা শহরে জড়ো হবেন। গতবার যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল তাতে বিড়ি শ্রমিকেরা আহত হয়েছিল। বিড়ি বানানো অনেক কঠিন কাজ। বিড়ি শিল্পের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর কারণে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মেসবাহ কামাল বলেন, ‘আজকের যে সমাবেশ করা হচ্ছে, তা হলো কোয়ার্টার ফাইনাল সমাবেশ। অর্থমন্ত্রী বিড়ি শ্রমিকদের আগামী তিন বছরের মধ্যে বিড়ি শিল্প বন্ধের যে চিঠি দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ অন্যায়, অবৈধ ও শ্রমবিরোধী চিঠি। এ চিঠির বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আগামী বাজেট ঘোষণার পর আবার যে সমাবেশ করা হবে, সেটি হবে সেমিফাইনাল সমাবেশ। তখন সব শ্রমিক ঢাকায় জড়ো হবেন।’
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, ‘আমরা বিড়ি শিল্পকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করে আসছি। আমরা বলছি না যে বিড়ি শিল্প ভালো। বিড়ি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান না করে এ শিল্প বন্ধ করা ঠিক হবে না। অর্থমন্ত্রী তিন বছরের মধ্যে বিড়ি শিল্প বন্ধের জন্য যে চিঠি দিয়েছেন, সেই চিঠির মধ্যে ব্রিটিশ ও অর্থমন্ত্রীর দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছি। আমরা আপনাকে (অর্থমন্ত্রী) হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, বিড়ি শিল্প বন্ধ করলে শ্রমিকেরা আপনাকে দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’
সমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক যোগ দেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম কে বাঙালী, আরডিসি'র সাধারণ সম্পাদক জান্নাত এ ফেরদৌসী প্রমুখ।








