নেপালে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আহত আলীমুন নাহার এ্যানীকে মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউন’কে তার রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে এ্যানীই সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে বাড়ি ফিরছেন।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মেয়েটা এখন ভালো আছে। তবে সেহরিন চলে যাওয়াতে ও একটু আপসেট হয়েছে। ওদের মধ্যে ওতো একা এখানে, আর তো কেউ নাই। আজকে ওর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। ওর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে এ্যানী যেতে পারে। আমরা চাইছি সে বাড়ি যাক। তাতে হয়তো ওর ভালো লাগবে।
তিনি বলেন, এ্যানীর শারীরিক অবস্থা ভালো। মানসিক অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই খারাপ হইতে পারে। কারণ তার স্বামী-সন্তান মারা গেছে। তবে তাকে পুনর্বাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
এ্যানীর বাবা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার মেয়ে এখন ভালোই আছে। আমাদের আর হাসপাতালে থাকার দরকার নেই। আমরা বাড়ি ফিরতে চাই। প্রথমে এ্যানীর শ্বশুরবাড়ি গাজীপুর শ্রীপুরে যাবো। সেখানে কিছুক্ষণ থেকে আমাদের ময়মনসিংহের ত্রিশালের বাড়ি যাবো।
তিনি বলেন, এ্যানীর শারীরিক কোনও সমস্যা নেই এখন। তবে, তার মন খারাপ থাকে। সময় পেলেই মেয়েটি মোবাইলে নিজের মেয়ের ছবি দেখে। সে এখন সব কিছু বুঝতে পেরেছে। সে এটাও বুঝেছে যা চলে গেছে তা আর ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সবাই আছি। আমরা ওকে ভালো রাখতে চাই। জানি না কিভাবে ওকে ভালো রাখতে পারবো! এতটুকু বলেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন এ্যানীর বাবা।
তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। স্বামী-সন্তান নিয়ে সে সুখেই ছিল। কিন্তু সেই সুখ কপালে সইলো না।
এ্যানীর স্বামীর পরিবারে শুধু তার শ্বাশুড়ী বেঁচে আছেন। বাবা-মায়ের দুই মেয়ের মধ্যে এ্যানী বড়। ওর ছোট বোন নবম শ্রেণিতে পড়ে।
উল্লেখ্য, ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ৭১ আরোহী নিয়ে ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। এই ঘটনায় আলীমুন নাহার এ্যানী তার স্বামী ফারুক আহমেদ প্রিয়ক ও কন্যা তামাররা প্রিয়ন্ময়ীকে হারায়। এ্যানী ও তার অন্য দুই সঙ্গী সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা ও মেহেদী হাসানকে ১৬ মার্চ নেপাল থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। গত ২৮ মার্চ বাড়ি ফেরেন স্বর্ণা ও মেহেদী।








