তাসনিমা তারান্নুমের চিকিৎসার বিষয়ে স্কয়ার হসপিটালের বক্তব্য

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৩১আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৩৪

 

স্কয়ার হসপিটাল স্কয়ার হসপিটালের রোগী তাসনিমা তারান্নুমের চিকিৎসা বিষয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরেছে স্কয়ার হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য জানায়।
নিম্নে স্কয়ার হসপিটালের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হলো-
১. বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল ) সন্ধ্যায় তাসনিমা তারান্নুম স্কয়ার হসপিটালের ইমারজেন্সিতে এসেছিলেন। লেস ফেটাল মুভমেন্ট অ্যান্ড আর্লি লেবার-এর কারণে রোগীকে ভর্তির উপদেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী রোগী ভর্তি হন। জোর করে ভর্তি করানোর কোনও অবকাশ নেই।
২. শুক্রবার (৬ এপ্রিল)  সকালে ডা. রেহনুমা রোগীকে দেখেন ও তার সঙ্গে কথা বলে তাকে অপশন দেন যে, চাইলে অগমেন্ট করতে পারেন। দুপুরের দিকে যখন লেবার একটু প্রগ্রেস করলো, তখন রোগীর অনুমতি স্বাপেক্ষে অগমেন্ট করা হয়।
৩. রাতে সিটিজিতে অতিরিক্ত কন্ট্রাকশন পাওয়া গেলে এবং ওএস থ্রি এসএম তখন ড্রিপটা বন্ধ করে রাতে তাকে রেস্ট দেওয়া হলো।নর্মাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম।

৪. পাঁচ বার পি/ভি করা, পাঁচ বার সিজিটি করা নরমাল ডেলিভারির জন্য স্বাভাবিক। এতে বোঝা যায়, তাকে ক্লোজ মনিটরিং করা হয়েছে। চার ঘণ্টা পরপর পি/ভি করার নিয়ম আছে।

৫. শনিবার (৭ এপ্রিল) সকালে রোগী নিজে যখন সিজার করতে চাইলেন এবং ডাক্তার রোগীর হাজব্যান্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেন। তখন সেখানে উপস্থিত রোগীর মা নরমাল ডেলিভারির পক্ষে মতামত দেন।

৬. পরবর্তীতে ডাক্তার দেখলেন সিটিজি রিয়্যাকটিভ, পি/ভি তে ওএস থ্রি-সিএম, এআরএম ডান, লিকুয়ার ওয়াজ ক্লিয়ার, এগুলো সব কিছুই নর্মাল ডেলিভারির পক্ষে ছিল। কিন্তু রোগী নিজে সিজার করাতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি রোগীর হাজব্যান্ডকে ডাকতে বললেন। কিন্তু রোগীর হাজব্যান্ড সেখানে তখন ছিলেন না। ঘণ্টাখানেক পরে উনি (রোগীর স্বামী) এসে রোগীর সঙ্গে কথা বলে চলে যান। তিনি লেবার রুমের ডাক্তারকে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি।

৭. দুপুরের দিকে রোগীর হাজব্যান্ডকে জানানো হলো— নর্মাল ডেলিভারি একটু দেরি হচ্ছে। দুপুর আড়াইটায় রোগীর হাজব্যান্ডকে ডেকে ডা. রেহনুমা জানান যে, আমরা আর দেরি করতে রাজি না। তারপর হাজব্যান্ডের অনুমতি নিয়ে অপারেশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

৮. রোগীর হাত ও পা বেঁধে রাখার যে অভিযোগ করেছেন, তার কোনও ভিত্তি নেই। কারণ, এলডিআর-এ রোগীর হাত পা বাঁধার কোনও অবকাশ নেই।

৯. রোগীকে খাবার না দেওয়ার বিষয়ে যে অভিযোগ এসেছে— এটি চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি অংশ (এনপিও)।

১০. শিশুটি জন্মের সময় গুরুতর অসুস্থ/সংকটাপূর্ণ ছিল। শিশুর শারীরিক অবস্থার স্কোর খুবই কম ছিল। তাই শিশুটিকে দ্রুত ইনটিউবেট করে অভিভাবকদের সম্মতিতে এনআইসিইউতে স্থানান্তর করে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। শিশুটির গুরুতর অবস্থা তার বাবা ও উপস্থিত অভিভাবককে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে এনআইসিইউ এর প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। একদিন পরে চিকিৎসারত অবস্থায় শিশুটি মৃত্যুবরণ করে।

১১.বিল সংক্রান্ত বিষয়ে যে সব বক্তব্য এসেছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা হলো— এ রোগীর বিল মেটলাইফ ইন্সুরেন্স কর্তৃপক্ষ গত ৫ এবং ৯  এপ্রিল স্কয়ার হসপিটালে বিল পরিশোধের বিষয়ে দুইটি (মা ও শিশুর) গ্যারান্টি লেটার (জিওপি) ইস্যু করেছিল। সুতরাং মিডিয়াতে যে বক্তব্যটি এসেছে ‘শিশুর স্বজনদের ডেকে বিল মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে স্কয়ার হাসপাতাল। তবে তাদের এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি’, তা সঠিক নয়। কারণ, ইন্সুরেন্স কোম্পানি যখন কোনও জিওপি ইস্যু করে, তখন রোগীর কাছে বিল চাওয়ার কোনও অবকাশ নেই।

১২. রোগী এবং রোগীর অভিভাবক হাসপাতালের সেবা ও আচরণগত যে অভিযোগ করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে একটি নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করবে। রোগীর পক্ষের প্রস্তাবিত দুজন বিশেষজ্ঞকেও উক্ত তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

/টিওয়াই/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম