কোটা ব্যবস্থা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।
এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা ব্যবস্থা বাতিলের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা করা হয়। এসময় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়কসহ কমিটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক নূর, আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, রাশেদ থান ও ফারুক হাসান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কথা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে তাদের চারজনের স্বাক্ষর রয়েছে। পরে নূরুল হক প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ বলে অভিহিত করেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেন। তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, ফের টিএসসি, কলাভবন, কমার্স ফ্যাকাল্টির সামনের রাস্তা দিয়ে মহসিন হলের সামনে, ভিসি চত্বর হয়ে আবার টিএসসিতে এসে শেষ হয়। ‘মেধাবীরা নিশ্চিত হলো, কোটা প্রথা বাতিল হলো’, ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’, ‘যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা, শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা’, ‘মেধাবীদের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’— এসব স্লোগান দেন মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। এরপর বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ৮ এপ্রিল দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের পদযাত্রা শুরু হয়। পরে রাজু ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে পদযাত্রাটি শাহবাগ মোড়ে আসে। বিকাল তিনটা থেকে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা সেখানেই অবস্থান নেন। এ সময় শাহবাগের আশপাশের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত পৌনে আটটার দিকে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় কয়েকজনকে আটকও করা হয়। এরপরই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের অ্যাকশনের মুখে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও টিএসসি এলাকায়।
পরে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি দল আলোচনায় বসেন। তিনি তাদের দাবি যাচাই-বাছাই করার জন্য ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখতে বলেন। তবে আন্দোলনকারীরা তা উপেক্ষা করেই তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে গত বুধবার (১২ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।








